kalerkantho

26th march banner

রংপুরে পাঁচ হাজার মেট্রিকটন শজিনা উৎপাদনের সম্ভাবনা

স্বপন চৌধুরী, রংপুর    

২৫ মার্চ, ২০১৬ ১৭:১২



রংপুরে পাঁচ হাজার মেট্রিকটন শজিনা উৎপাদনের সম্ভাবনা

শজিনায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠছে বেগম রোকেয়ার পায়রাবন্দ। গত কয়েক বছর ধরে অভাবী পরিবারগুলো পুষ্টিসমৃদ্ধ ও অর্থকরী সবজি শজিনা চাষ করে তাদের দিন বদল করেছেন। বেগম রোকেয়ার জন্মস্থান পায়রাবন্দের গ্রামগুলো ক্রমেই পরিচিত হয়ে উঠছে 'শজিনার গ্রাম' হিসেবে।

পায়রাবন্দসহ রংপুরে এ বছর শজিনার উৎপাদন ভালো হওয়ায় উল্লেখযোগ্য লাভের আশা করছেন কৃষকরা। আগাম উৎপাদিত এই সবজি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। শজিনা চাষে আলাদা জমির প্রযোজন না হওয়ায় কৃষকরা পুষ্টিসমৃদ্ধ ও অর্থকরী সবজি হিসেবে এর চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

কৃষি বিভাগ জানায়, রংপুর জেলায় বাণিজ্যিকভাবে বাগান আকারে শজিনার চাষ না হওয়ায় আয়তন বলা কঠিন। তবে জরিপ অনুযায়ী জেলার আট উপজেলায় মাঝারি ও বড় আকারের শজিনা গাছ আছে প্রায় ৪২ হাজার। প্রতিগাছে গড়ে ১২০ কেজি হিসেবে এ বছর শজিনার উৎপাদন হবে প্রায় পাঁচ হাজার ৪০ মেট্রিকটন।

সরেজমিন মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের ইসলামপুর ভাঙ্গাপাড়া, চুহড় ও ইসলামপুর নয়াপাড়া গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, প্রায় তিন হাজার পরিবারের বাস। সেখানে এমন কোনো বাড়ি পাওয়া যাবে না যেখানে তিন থেকে ১০টি শজিনা গাছ নেই। ভরা মৌসুমে গাছগুলো ঝুমঝুম করছে শজিনায়। খাওয়ার উপযোগী হওয়ায় প্রতি বাড়িতে এখন শজিনা উত্তোলনে ব্যস্ত গাছ মালিকরা। তাঁরা জানান, কেউ কেউ প্রতি গাছের শজিনা দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায় আগাম বিক্রি করেছেন ব্যবসায়ীদের কাছে। আবার কেউ নিজেই শজিনা উত্তোলন করে স্থানীয় হাট বাজারে বিক্রি করছেন চড়া দামে।

চুহড় গ্রামের মনোয়ারা বেগম জানান, শজিনার কারণেই তাঁদের সংসারের অভাব দূর হয়েছে। ইসলামপুর নয়াপাড়া গ্রামের সূর্য বেগম বলেন, "শজিনা আবাদে জমি লাগে না। জমির আইলে বা ঘরের কোনায় এর গাছ লাগানো যায়। " ইসলামপুর ভাঙ্গাপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম জানান, সারা বছর ফলন দেয় এমন বারোমাসী শজিনাও আছে তাঁর বাড়িতে। ১৫ থেকে ২০টি শজিনা এক কেজি হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, "শজিনা খুবই লাভজনক। প্রতিবছর ভরা মৌসুমে সর্বনিম্ন ২০ টাকা কেজিতে শজিনা বিক্রি হয়। তা ছাড়া কিছু কিছু গাছে শজিনার আগাম ফলন হওয়ায় সেগুলো এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। "

এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হামিদুর রহমান বলেন, "পুষ্টি ও ভেষজ গুণসম্পন্ন এবং অর্থকারী সবজি শজিনা আবাদে চাষিদের উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ' চিকিৎসকরা জানান, শজিনা এমন একটি সবজি যাতে খাদ্যের প্রায় সবগুলো উপাদানই বিদ্যমান। তা ছাড়া শজিনার পাতা, ডাঁটা, ফুল, ছাল, মূল, বীজ ও শজিনার আঠা ভেষজ গুণসম্পন্ন। যা অনেক রোগ উপশমের কাজে লাগে। "

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের উপপরিচালক স ম আশরাফ আলী বলেন, "শজিনা চাষে আলাদা জমির প্রয়োজন হয় না। অন্যান্য ফল গাছের মতো সবাই তাদের বাড়ির আনাচে-কানাচে দু‌ই-চারটি শজিনা গাছ লাগাতে পারে। এতে নিজেদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করেও আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। " কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পুষ্টিমানসম্পন্ন এই অর্থকরী সবজির গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

 


মন্তব্য