kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ । ৬ মাঘ ১৪২৩। ২০ রবিউস সানি ১৪৩৮।


ঝিনাইদহ মহেশপুরের দত্তনগর বীজ উৎপাদন খামারের হেড

ব্লাস্টে আক্রান্ত ৩৫৭ একর জমির গম আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি   

২৪ মার্চ, ২০১৬ ২০:৪৪



ব্লাস্টে আক্রান্ত ৩৫৭ একর জমির গম আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস

ঝিনাইদহের মহেশপুরের দত্তনগর সরকারি বীজ উৎপাদন খামারের হেড ব্লাস্টে আক্রান্ত ৩৫৭ একর জমির গম আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে  মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী  ম্যাজিষ্ট্রেট আশাফুর রহমানের উপস্থিতিতে বীজ উৎপাদন খামারের ১৮টি স্পটে গমক্ষেত আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

এ সময় বিএডিসি’র মহাব্যবস্থাপক(বীজ)আমিনুল ইসলাম সহ কৃষি বিভাগের উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিএডিসি’র মহাব্যবস্থাপক(বীজ)আমিনুল ইসলাম জানান, ১৯৮৫ সালে ব্রাজিলে প্রথম এই রোগ দেখা দেয়। দীর্ঘদিন পর আবার আমাদের দেশের বৃহত্তর যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের গম ক্ষেতে এবার হেড ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। কৃষি মন্ত্রনালয়, বিএডিসি ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের নির্দেশক্রমে মহেশপুর দত্তনগর সরকারী বীজ উৎপাদন খামারের অধীনে মথুরা, গোকুলনগর, করিঞ্চা ও কুশাডাঙ্গা বীজ বর্ধন খামারের ফসলের নিরাপত্তা জনিত কারণে এই খামারের আওতায় আবাদকৃত হেড ব্লাস্টে আক্রান্ত ৩৫৭ একর জমির গম ক্ষেত আগুন দিয়ে  পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই রোগাক্রান্ত গম খেলে মানুষের স্বাস্থ্যহানীর সম্ভাবনা কম থাকলেও   বীজ হিসাবে এই গম ব্যবহার করলে দেশের গম চাষ হুমকির মধ্যে পড়তে পারে।

দিনাজপুরের গম গবেষনণা কেন্দ্রের পরিচালকের এক প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানাগেছে, শীষ বের হওয়ার সময় ফেব্রুয়ারী মাসে খুলনা বিভাগের ৫টি জেলায় বৃষ্টিপাত হয়েছে। যে কারণে এলাকার তাপমাত্রা বেড়ে যায়। ফলে যশোর কুস্টিয়া এলাকায় আবহাওয়া জনিত কারনে হেড ব্লাষ্টের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। ফেব্রুয়ারি মাসে বৃষ্টিপাত হলে হেড ব্লাস্টের বিস্তার ঘটার সম্ভাবনা থাকে। বারি ২৬ জাতের গম ক্ষতে হেড ব্লাষ্টের আক্রান্ত বেশি হয়েছে।

দত্তনগর বীজ উৎপাদন খামারের যুগ্ন পরিচালক জামিনুর রহমান জানান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে হেড ব্লাস্ট আক্রান্ত গম ক্ষেত পুড়ানো হচ্ছে। ব্লাস্ট আক্রান্ত গম বীজ হিসাবে  রাখলে আগামীতে সারাদেশে এ রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। এতে মোট ক্ষতির পরিমান  আনুমানিক দেড় কোটি টাকা হবে বলে তিনি জানান।

গম ক্ষেত আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করার সময় বিএডিসি’র মহাব্যবস্থাপক(বীজ)আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক(খামার) মুজিবুর রহমান, যুগ্ম পরিচালক (বীজ পরীক্ষা) আশুতোষ লাহুড়ী, প্রকল্প পরিচালক বিপন কুমার মন্ডল, প্রকল্প পরিচালক (ঢাকা)প্রদীপ চন্দ্রদে,অতিরিক্ত পরিচালক মাঠ প্রশাসন মেহের আলী,আঞ্চলিক বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা অশোক কুমার হালদার, যুগ্ম পরিচালক জামিলুর রহমান, যুগ্ম পরিচালক (ফরিদপুর) দেবদাস শাহা সহ মেহেরপুর,কুষ্টিয়া ও যশোরের আঞ্চলিক পরিচালক গন, দত্তনগর খামারের উপ-পরিচালক দেলোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ফায়ার ব্রিগ্রেড,মেডিক্যাল টিম ও পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।


মন্তব্য