kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ । ৬ মাঘ ১৪২৩। ২০ রবিউস সানি ১৪৩৮।


আহত ২০

সাতক্ষীরায় উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় সংঘর্ষ, বিজিবির লাঠিচার্জ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

২৩ মার্চ, ২০১৬ ২২:৩৬



সাতক্ষীরায় উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় সংঘর্ষ, বিজিবির লাঠিচার্জ

বার্ষিক কালীপূজা উপলক্ষে কবিগান চলাকালে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীর সম্পর্কে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় উভয়পক্ষের সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হয়েছে। আজ বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মাদরা সার্বজনীন কালী পূজা মন্দিরের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- তালা উপজেলার মাগুরা ইউপি নির্বাচনে ওয়ার্কার্স পার্টির পরাজিত প্রার্থী মাদরা গ্রামের হিরন্ময় মন্ডল, পবিত্র গাইন, গীতা রাণী মন্ডল, সুশীল মন্ডল ও মাগুরা গ্রামের নব নির্বাচিত ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম। তাদেরকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে, তালা উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতির ইন্ধনে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে এমন অভিযোগে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী উপজেলা চেয়ারম্যান ও তার ব্যবহৃত গাড়ি অবরোধ করে রাখে। পরে পুলিশ ও বিজিবি এসে গ্রামবাসীর ওপর লাঠিচার্জ করে উপজেলা চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। লাঠিচার্জের ছবি তুলতে গেলে উপপরিদর্শক এনামুল হোসেন স্থানীয় সাংবাদিক সুধান্য সরকারের ক্যামেরা কেড়ে নেন।

মাদরা সার্বজনীন বার্ষিক কালীপুজা পরিচালনা পরিষদের সভাপতি অনিল সরকার ও আশুতোষ মণ্ডল জানান, বার্ষিক কালীপূজা উপলক্ষে বুধবার দুপুর থেকে মন্দিরে কবিগান চলছিল। এ সময় নবনির্বাচিত মাগুরা ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের গনেশ চন্দ্র দেবনাথ উপজেলা জেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সন্দীপ রায়কে নিয়ে মন্দিরের পাশের কয়েকটি বাড়িতে শুভেচ্ছা বিনিময় করছিলেন। দুপুর আড়াইটার দিকে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানের সঙ্গে থাকা তার কর্মী ও সমর্থকরা কবিগান শ্রোতাদের তুলে দিয়ে চেয়ার দখল করে নেন। মন্দিরের পক্ষ থেকে কেবলমাত্র অতিথিদের জন্য কয়েকটি চেয়ার রেখে দিয়ে বাকি চেয়ার ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সন্দীপ রায় মাগুরা ইউপি নির্বাচনে ওয়ার্কার্স পার্টির পরাজিত প্রার্থী হিরন্ময় মন্ডল সম্পর্কে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন। এর প্রতিবাদ করায় সন্দীপ রায়সহ তাদের সঙ্গে থাকা ইউপি সদস্য রেজাউল করিমসহ ১৫/২০ জন হিরন্ময় মণ্ডলসহ কয়েকজনের ওপর হামলা চালায়। এতে আহত হয় চারজন। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য চিত্তরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে আত্মগোপন করেন। লাপাত্তা হয়ে যায় সন্দীপ রায়। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান মোবাইল ফোনে হিরন্ময় মণ্ডলকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেন। বিষয়টি প্রচার হওয়ায় ক্ষুব্ধ জনতা মাদরা বাজারে উপজেলা চেয়ারম্যানের ব্যবহৃত গাড়িটি ঘেরাও করে তার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে।

এ বিষয়টি জানতে পেরে সাতক্ষীরা সদর সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার আতিকুর রহমান, তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছগির মিঞ্রা, উপপরিদর্শক এনামুল হোসেন, সহকারি উপপরিদর্শক প্রকাশ সরকার ও নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা বিজিবি সদস্যরা তালা উপজেলার মাদরা বাজারে ছুঁটে আসেন। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করে এলাকায় শান্তি ভঙ্গ করার অভিযোগে ঘোষ সনৎ কুমার ও সন্দীপ রায়কে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিজিবি সদস্যরা তাদের ওপর অহেতুক লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দেয়। এতে আহত হয় কমপক্ষে ২০ জন। ছবি তুলতে গেলে কেড়ে নেওয়া হয় স্থানীয় সাংবাদিক সুধান্য সরকারের ক্যামেরা। পরে পুলিশ ঘোষ সনৎ কুমারকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে তালা থানার উপপরিদর্শক এনামুল হোসেন জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশে উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমারকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

এ ব্যাপারে তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছগির মিঞ্রা জানান, এই মুহুর্তে উপজেলা চেয়ারম্যান আটক বা গ্রেপ্তার তা বলা যাবে না। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে। বিষয়টি পরে জানানো হবে।


মন্তব্য