kalerkantho


মাগুরায় শিক্ষা কর্মকর্তা দুর্নীতির প্রতিবাদে সমাবেশ

মাগুরা প্রতিনিধি    

২৩ মার্চ, ২০১৬ ১৮:২৯



মাগুরায় শিক্ষা কর্মকর্তা দুর্নীতির প্রতিবাদে সমাবেশ

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালামের ঘুষ ও দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং তাঁর অপসারণের দাবিতে মিছিল ও  সমাবেশ করেছেন উপজেলার ১৩৪টি স্কুলের শিক্ষকরা। আজ বুধবার দুপুরে মিছিল নিয়ে প্রথমে তাঁরা জেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন হোসেনের কার্যালয়ে যান। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষকরা কর্মকর্তা সালামের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি এবং অনিয়মের নানা অভিযোগ তাঁর কাছে তুলে ধরে তাঁর অপসারণ দাবি করে স্লোগান দেন।

এ সময় প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রধান শিক্ষক গাওয়াহীদ হোসেন, মাহাবুবর রহমান শরীফ, কমনীয় কিঙ্কর তেওয়ারী, মো. মুরাদ হোসেন. মো. আবু তাহের, মো. মশিউর রহমান, মো. ফসিয়ার রহমান,  রেজাউল করিম বাবু প্রমুখ।

শিক্ষকরা তাদের বক্তব্যে অভিযোগ করেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালাম দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা থেকে মাগুরার মহম্মদপুরে যোগ দেন। যোগদানের পর থেকেই বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য শুরু করেন তিনি। উপজেলার ১৩৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৬০০ শিক্ষক কর্মচারীর কাছ থেকে নানা কাজ আটকে দিয়ে তিনি অর্ধকোটি টাকা ঘুষ বাণিজ্য করেছেন। তিনি টাইম স্কেলের  বকেয় বিল, সাবেক বেসরকারি শিক্ষকদের টাইম স্কেল, দপ্তরিদের বর্ধিত বেতন বিলে স্বাক্ষর করার আগে শিক্ষক প্রতি এক থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেন।

শিক্ষকরা বলেন, ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে তিনি প্রতিস্থাপন ছাড়াই শিক্ষক বদলি করেছেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তা উপজেলা পর্যায়ে শিশু প্রতিযোগিতার আয়োজন না করেই চ্যাম্পিয়ন তালিকা পাঠিয়ে বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সংস্কার কাজ ও শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ের বিপরীতে সরকারি বরাদ্দের শতকরা ২০ ভাগ টাকা ঘুষ বাবদ জোর করে আদায় করেন।

এ বিষয়ে সম্প্রতি তাঁরা লিখিত অভিযোগ শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তা সালামের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্ত করতে গতকাল মঙ্গলবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম সিরাজুদ্দোহা সরেজমিন মহম্মদপুরে আসলে শিক্ষকরা আব্দুস সালামের নানা অনিয়ম দুর্নীতির বিষয় তদন্ত কর্মকর্তার কাছে তুলে ধরেন।

এদিকে, অভিযুক্ত মহম্মদপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালাম এ বিষয়ে বলেন, "পুরো বিষয়টি ষড়যন্ত্র। একটি বিশেষ মহলের স্বার্থ রক্ষা না হওয়ায় তাঁরা এ ধরনের অভিযোগ আনছেন। ‌আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। " জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম সিরাজুদ্দোহা বলেন, "ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। " মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন হোসেন বলেন, "শিক্ষকরা আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দিয়েছেন সেটি আমি জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি। "

 


মন্তব্য