kalerkantho

বুধবার । ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ । ৫ মাঘ ১৪২৩। ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮।


ফেনীতে ক্যাডেট কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ফেনী প্রতিনিধি   

২২ মার্চ, ২০১৬ ১৯:০৪



ফেনীতে ক্যাডেট কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী লামিয়া তাবাসসুম তুবার (১৪) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সকালে ফেনী মডেল থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ কলেজের খাদিজা হাউজের তুবার কক্ষের বাথরুম থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত তুবা কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজের শিক্ষক সাইফুল আলম ও নাদিয়া ইয়াসমিনের দ্বিতীয় সন্তান। কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মনোহরগঞ্জের সাত পুকুরিয়া এলাকায় তাদের বাড়ি।

ক্যাডেট কলেজ সূত্রে জানা যায়, আজ মঙ্গলবার ভোরে হোস্টেলের অন্য ছাত্রীরা তাকে তার বিছানায় না দেখে খোঁজাখুজি শুরু করে। এক পর্যায়ে হোস্টেলের একটি বাথরুম দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় কলেজ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানায় ছাত্রীরা। এরপরে ওই বাথরুমটির দরজা ভেঙে তুবার ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তুবার মরদেহটি উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠায়।

এ ব্যাপারে এসআই মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ওই সময় তুবার মরদেহ বাথরুমের শাওয়ারের সাথে একটি ওড়নায় ঝুলছিল। তিনি আরো জানান, তুবার বাঁ হাতে কলম দিয়ে সুইসাইড নোটে লেখা ছিল “আই উইল ডাই”। এ ব্যাপারে ফেনী মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মঙ্গলবার দুপুরে কলেজের অধ্যক্ষ জাহানারা চৌধুরী টেলিফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, কি কারণে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এ ব্যাপারে তিনি খোঁজ-খবর নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে ফেনী সদর হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. অসীম কুমার সাহা জানান, এটি আত্মহত্যার ঘটনা। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গভীর রাত আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে এ ঘটনাটি ঘটে বলে জানান তিনি।  

এদিকে এদিন বিকেলে কলেজে গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সূত্র জানায়, তুবা শ্রেণিতে প্রথম ছাত্রী (ফার্স্ট গার্ল) ছিল। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি পরীক্ষায় প্রত্যাশার তুলনায় কম নম্বর পাওয়ায় সোমবার তার মন খারাপ ছিল। সোমবার বিকেলে মা-বাবার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সে টেলিফোনে তাদের পায়নি। এক ধরনের হতাশা থেকে সে এমনটি করতে পারে।


মন্তব্য