kalerkantho


রায়গঞ্জের রুদ্রপুর কেন্দ্রে ব্যালট পেপার লুট

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি    

২২ মার্চ, ২০১৬ ১৮:৩৩



রায়গঞ্জের রুদ্রপুর কেন্দ্রে ব্যালট পেপার লুট

ব্যাপক কারচুপি, ব্যালট পেপার ছিনতাই, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। অনেক ইউনিয়নের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী এজেন্ট পাওয়া যায়নি।

বিএনপি অভিযোগ করেছে, হুমকির ভয়ে অনেক কেন্দ্রের এজেন্ট ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেননি।

সকালে ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায় নির্বাচন শুরুর সাথে সাথে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক ভোটারের উপস্থিতি। বিশেষ করে নারী  ভোটারদের উপস্থিত ছিল চোখে পড়ার মতো। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর করার লক্ষ্যে বিপুলসংখ্যক বিজিব, পুলিশ, আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। ১৪ জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত উপজেলাজুড়ে কাজ শুরু করেন। সকাল ১০টা পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ চললেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে বিভিন্ন কেন্দ্রে জোড়পূর্বক ভোট কারচুপির খবর আসতে শুরু করে।

সকাল ১১টার দিকে ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের জানকিগাঁতী কেন্দ্রে সরকারদলীয় প্রার্থীর পক্ষে জোরপূর্বক ভোট কাটার চেষ্টা করার সময় বিপক্ষের লোকজন বাধা দিলে সংঘর্ষ বাঁধে। ফলে কিছু সময়ের জন্য ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। পরে বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু করা হয়।

এদিকে, চান্দাইকোনা ইউনিয়নের দেড়াগাতি রুদ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে ভোট লুট করে তার সমর্থকরা। একইসঙ্গে তারা একই কেন্দ্রে ব্যাপকহারে ব্যালট পেপারে সিল মারে। কারচুপির কারণে  ওই কেন্দ্রে মেম্বর প্রার্থীর ব্যালট থাকলেও চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যালট পাওয়া যায়নি। দুপুর সোয়া ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রে কর্তব্যরত সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হেলাল উদ্দিন জানান, একদল লোক কেন্দ্রের বুথে ঢুকে চেয়ারম্যান প্রার্থীর একটি ব্যালট বই ছিনিয়ে নেয়। পরে তারা সব ব্যালট পেপার নিয়ে গেছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রের পদস্থ কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে।

কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার কমল চন্দ্র সাহা জানান, কেন্দ্রে ৩-৪টি বুথ থেকে সরকারদলীয় সমর্থকরা শুধু চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যালট পেপার জোরপূর্বক নিয়ে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাচন অফিসারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে চারটি বইয়ের ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে গেলেও সেখানে ঠিক কতটি ব্যালট পেপার ছিল তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি। ওই কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা ২৯০৬। সেখানে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী খন্দকার শামীমুল ইসলাম শামীম। এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে র‍্যাব-পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ বিষয়ে রায়গঞ্জে পরিদর্শনরত রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার হেলাল উদ্দিন আহম্মেদ জানান, এ ঘটনার বিষয়ে কেউ তাঁকে অবগত করেনি। জেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুর রহিম জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকার রিটার্নিং  অফিসারকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তবে চান্দাইকোনা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটানিং অফিসার রবিউল করিম জানান, বিষয়টি কেউ তাঁকে অবগত করেনি।

এ ছাড়া পাঙ্গাসী ইউনিয়নের ব্যাংনাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী আব্দুল সালাম জোরপূর্বক ভোট নেওয়ার চেষ্টা করলে অপর দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা একজোট হয়ে মারপিট করে তাকে আটকে রাখে। খবর পেয়ে বিজিবি তাঁকে উদ্ধার করে। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে কর্তব্যরত এক আনসার সদস্য আহত হলে তাকে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অপরদিকে, সোনাখাড়া ইউনিয়নের গথিতা ও খৈচালা কেন্দ্রে জাল ভোট ও জোরপূর্বক ভোট নেওয়াকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৭ জন আহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

 


মন্তব্য