kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


কার্গো বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ৩ বিদেশির লাশ স্বদেশের পথে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২২ মার্চ, ২০১৬ ১৮:২২



কার্গো বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ৩ বিদেশির লাশ স্বদেশের পথে

বঙ্গোপসাগরে কার্গো বিমান দুর্ঘটনার টানা দুই সপ্তাহ পর অবশেষে তিন হতভাগ্য ইউক্রেন নাগরিকের লাশ স্বদেশের পথে নেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকালে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের হিমঘর থেকে এই তিন বিদেশি নাগরিকের লাশ দেশে নিয়ে যাবার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

 
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন  জানান, যেহেতু কক্সবাজারে নিহত ইউক্রেন নাগরিকদের ব্যাপারে কোন মামলা-মোকদ্দমা নেই তদুপরি তাদের লাশ দেশে নিয়ে যাবার কাগজপত্রও যথাযথ পাওয়া গেছে, তাই নিয়ে যেতে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। আজ বিকালে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে আনুষ্ঠানিকভাবে তিন বিদেশির লাশ হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসনের পক্ষে সহকারি কমিশনার মোজাম্মেল হক রাসেল, পুলিশ সুপারের পক্ষে পুলিশের উপ পরিদর্শক আবদুর রহিম ও সিভিল সার্জনের পক্ষে সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: সুলতান আহমদ সিরাজী। অপরদিকে ইউক্রেন বিমানটির বাংলাদেশি বেসরকারী সংস্থা এজেন্ট মেসার্স ট্রু এভিয়েশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপক হাশমত জাহান লাশগুলো গ্রহণ করেন।

 
মেসার্স ট্রু এভিয়েশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপক হাশমত জাহান কালের কণ্ঠকে জানান, বাংলাদেশে ইউক্রেনের কোন দূতাবাস নেই তবে দেশটির বাংলাদেশস্থ কনস্যুলারের ঐকান্তিক সহযোগিতায় দিল্লীতে অবস্থিত ইউক্রেন দূতাবাস থেকে যাবতীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এ কারণে হয়তোবা এ ক'দিন বিলম্ব হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো জানান, কক্সবাজার থেকে লাশ তিনটি প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে নিয়ে পঁচন প্রতিরোধের ব্যাপারে পরীক্ষা নীরিক্ষা করা হবে। এরপরেই রাজধানী ঢাকার বিমানবন্দরে নিয়ে বিমানযোগে স্বদেশে পাঠানো হবে ।

প্রসঙ্গত, গত ৯ মার্চ সকালে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পরেই ইউক্রেনের এএন-২৬ কার্গো বিমানটি বিমান বন্দরের পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের নাজিরারটেক সমুদ্র পয়েন্টে বিধ্বস্ত হয়। এতে পাইলটসহ তিন বিদেশি নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন বিদেশি। ইউক্রেন থেকে বেসরকারি বিমান সংস্থা ট্রু এভিয়েশনের আনা কার্গো বিমানটি চিংড়ি পোনা নিয়ে কক্সবাজার থেকে যশোর যাচ্ছিল। দুর্ঘটনায় ইউক্রেন নাগরিক যথাক্রমে পাইলট ক্যাপ্টেন মুরাদ গাফারভ, কো পাইলট ইভান পেট্র এবং ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার কুলিশ আন্দ্রে নিহত হন। তাদের লাশ গত দুই সপ্তাহ ধরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হিমঘরে ছিল। এ ছাড়াও এ ঘটনায় আহত নেভিগেটর ভ্লুদিমার কুলতুনভকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি বর্তমানে সুস্থ এবং শীঘ্রই তার দেশে ফিরে যাবার কথাও রয়েছে।

                     


মন্তব্য