kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


রাজশাহী অঞ্চলে বেড-প্লান্টিং পদ্ধতিতে গম চাষে অগ্রগতি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ মার্চ, ২০১৬ ২০:৫০



রাজশাহী অঞ্চলে বেড-প্লান্টিং পদ্ধতিতে গম চাষে অগ্রগতি

গত কয়েকবছর যাবৎ রাজশাহীসহ বিস্তৃত বরেন্দ্রাঞ্চলের চাষি ও সংশ্লিষ্টদের মাঝে অনেক আগ্রহ দেখা দেওয়ায় বেড-প্লান্টিং পদ্ধতিতে গম চাষ জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছে।
এবারের মৌসুমে চাষিরা বেড-প্লান্টিং পদ্ধতিতে গম চাষ করায় আগের বছরের তুলনায় ভালো ফলন পেয়েছে। অন্যান্য চাষিদেরও মৌসুমি ফসল যেমন মুগ, ভুট্টা, আলু ও আগামী মৌসুমে মসুর চাষে এ পদ্ধতি ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে।
চাষি ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্যরা এ পদ্ধতিতে গাষের কিছু সফলতার কথা বাসসকে জানায়।
জেলার চারঘাট উপজেলার বাদুরিয়া গ্রামের আশরাফ আলী ও আবদুল লতিফ নামে দুজন চাষি জানান, গতবছর তারা গম গবেষণা কেন্দ্র থেকে দুটি বেড প্লান্টিং মেশিন সংগ্রহ করে এবং প্রায় ২শ’ ৫০ বিঘা জমিতে গম চাষ করে। এ পদ্ধতিতে গম চাষের ফলে বিঘাপ্রতি ৫ থেকে ৭ মণ গম তারা বেশি পেয়েছে।
আর্থিক সহায়তা পাওয়ায় তারা দুটি মেশিন কিনে। মেশিনের মাধ্যমে এ মৌসুমে তারা প্রায় সাড়ে ৪শ’ বিঘা জমিতে গম চাষ করেছে। পাশাপাশি, তারা এখন মেশিন সরবরাহের ব্যবসা করে আর্থিক লাভবান হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে অন্যান্য জমির মালিকরা উপকৃত হচ্ছে।
চাষিরা বলেন, এ অঞ্চলে ব্যাপকভাবে গম ও অন্যান্য ফসল চাষে ব্যবহারে এ মেশিন ক্রয়ে ভর্তুকি দেয়া প্রয়োজন।
আরডব্লিউআরসি’র মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ইলিয়াস হোসেন বাসসকে বলেন, এ মৌসুমে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে গম চাষ করা হয়েছে এবং এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বেড প্লান্টেশন পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী মৌসুমে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে গম চাষ আরো বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বেড প্লান্টিং পদ্ধতি পানি সরবরাহ প্রক্রিয়ার উন্নত করে, সার ব্যবহারে ভালো ফল দেয়, আগাছার উপদ্রব কমায় এবং শস্য বান্ধব। এছাড়া এটি ইদুরের উপদ্রব থেকেও রক্ষা করে বলে জানান ড. ইলিয়াস হোসেন।
এ পদ্ধতির মাধ্যমে ৩০ শতাংশ কম সেচের প্রয়োজন হয় এবং ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বীজ ও সারের প্রয়োজন হয়। ভূমির উর্বরতা শক্তি বজায় রাখার জন্য বর্ষায় ধান ও শীতের ফসল চাষের মাঝে বিভিন্ন জাতের ধান চাষে এ পদ্ধতিটি সহায়ক হতে পারে।


মন্তব্য