kalerkantho


মঠবাড়িয়ার ১০ ইউনিয়নে ৮০ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

৫২ কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পিরোজপুর    

২০ মার্চ, ২০১৬ ১৬:১১



মঠবাড়িয়ার ১০ ইউনিয়নে ৮০ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

মঙ্গলবার (২২ মার্চ) প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ১০ ইউনিয়নের ৮০ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। উপজেলার ১০ ইউনিয়নের ৯৩টি ভোট কেন্দ্রের ৫২টিতে বিশেষ নিরাপত্তার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। শেষ মুহূর্তে চলছে ব্যালট পেপার ও নির্বাচনী সরমঞ্জামাদি কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানোর প্রস্তুতি।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার ১০ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন মনোনীত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ চেয়ারম্যান পদে ৫০, সংরক্ষিত আসনে ১০০ জন ও সাধারণ আসনে ৩৮২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মঠবাড়িয়ার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এবার ১ লাখ ৫২ হাজার ৬৬৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে এবার ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ হতে এবার ১০ ইউনিয়নের ৮০ শতাংশ কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সুন্দরবনের কোলঘেঁষা বলেশ্বর নদীতীরবর্তী এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরে প্রশাসন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে মঠবাড়িয়ার ১০ ইউনিয়নে অব্যাহতভাবে ব্যাপক সহিংসতা ঘটায় প্রশাসন ভোটকেন্দ্রগুলো বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

তবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের ভয়ভীতি ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, প্রচারে বাধা প্রদান করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করায় উপজেলার সব ইউনিয়নের ভোট কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ দাবি করছে স্বতন্ত্র ও বিরোধীদলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।

বেতমোর ইউনিয়নের বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী এস এম ফেরদৌস রুম্মান অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর সমর্থকরা এলাকায় ভোটারদের ভয় ভীতি দিচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে আশংকা থাকায় ১০ ইউনিয়নের সবগুলো কেন্দ্রই ঝুকিপূর্ণ।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. মাহফুজুর রহমান জানান, নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়। আজ রবিবার থেকে প্রতিটা ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সরমঞ্জামাদি পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন নির্বাচনে কোনো প্রার্থী প্রভাব খাটাতে পারবে না। নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছ করতে যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে নাশকতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। পুলিশ, আনসার ভিডিপি সদস্যর পাশাপাশি র‌্যাবও টহলে থাকবে। এ ছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।

মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফরিদ উদ্দিন জানান, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর নেতৃত্বে বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের মোবাইল টিম অব্যাহত থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৯ জনের সশস্ত্র পুলিশ ও আনসার ভিডিপি সদস্য নিয়োজিত থাকবে।


মন্তব্য