kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ । ৬ মাঘ ১৪২৩। ২০ রবিউস সানি ১৪৩৮।


আহত ৬

মেলান্দহে নির্বাচনী সহিংসতায় প্রতিপক্ষের অফিস, মাইক ভাঙচুর

জামালপুর প্রতিনিধি   

১৯ মার্চ, ২০১৬ ২৩:৪১



মেলান্দহে নির্বাচনী সহিংসতায় প্রতিপক্ষের অফিস, মাইক ভাঙচুর

জামালপুরের মেলান্দহের মাহমুদপুর ইউনিয়নে বিএনপি কর্মীদের সাথে আওয়ামী লীগ কর্মীদের সংঘর্ষ, নাংলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ কর্মীদের সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের সংঘর্ষ এবং শ্যামপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ওপর বিএনপি কর্মীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই তিনটি পৃথক ঘটনায় প্রতিপক্ষের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, মারধর, মোটরসাইকেল ও মাইক ভাঙচুরসহ বিএনপির অফিস তছনছের ঘটনা ঘটেছে। ওইসব এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী নূরে আলম তালুকদার রুনু জানান, আজ শনিবার দুপুরে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মীরা মাহমুদপুর বাজারে বিএনপির অফিসে হামলা করে তাণ্ডব চালায়। কর্মীদের মারধরসহ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে তারা। এতে বিএনপি কর্মী সাত্তার(৩০), সাধু(৪৫) এবং সোনা মিয়া(৩২) আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত সাধুকে জামালপুর শাহজামাল(রহ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অপরদিকে মাহমুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, বিএনপি কর্মীরা আওয়ামী লীগ কর্মীদের নির্বাচনী বাধা দেওয়ায় দুই পক্ষের সমর্থকদের মাঝে হালকা সংঘর্ষ হয়েছে। তবে পরবর্তীতে মেলান্দহ থানার ওসি নাসিমুল ইসলামের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষকে ডেকে মিমাংসা করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মাহমুদপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণায় স্বাভাবিক পরিবেশ বিরাজ করছে।

এ ছাড়াও একই দিন দুপুরে নাংলা ইউনিয়নে পৃথক সংঘষের খবর পাওয়া গেছে।

নাংলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহফুজুল হক মাফল জানান, শনিবার সকালে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন ও তার সমর্থকরা আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পোষ্টার ছিড়ে আগুন দিয়ে পুড়ে দিয়েছে। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর মাইক কেড়ে নিয়ে প্রচারকারীকে মারধর করায় সাধারণ কর্মীদের সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কিছুটা হাতাহাতি হয়েছে। তবে পোষ্টার ছিড়া, মাইক কেড়ে নেওয়া এবং আওয়ামী লীগ কর্মীকে মারধরের ঘটনায় সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং মেলান্দহ থানায় পৃথক অভিযোগ করা হয়েছে।

অপরদিকে নাংলা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট শেখ মো. জাকির হোসেন জানান, গণসংযোগ চলাকালে তাঁকে এবং তার কর্মী সরবেশ (৫০), কবিরুল (৩০)কে মারধর করে আহত করেছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। তিনি সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং মেলান্দহ থানায় পৃথক অভিযোগ করেছেন বলেও জানান এই চেয়ারম্যান প্রার্থী।

তা ছাড়াও গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে মেলান্দহের শ্যামপুর ইউনিয়নের আমডাঙ্গা গ্রামে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাতুজ্জামান সুরুজের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকরা। হামলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাতুজ্জামান সুরুজ ও তার পুত্র আলমগীর হোসেন এবং সমর্থক আবু তারেক গুরুতর আহত হন। আহতরা বর্তমানে মেলান্দহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মেলান্দহ থানার ওসি নাসিমুল ইসলাম জানান, ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে মাহমুদপুর, শ্যামপুর ও নাংলা ইউনিয়নে পৃথক তিনটি সংঘর্ষের ঘটনা তিনি শুনেছেন। মাহমুদপুরের দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছেছে এবং শ্যামপুরের ঘটনায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। তবে নির্বাচনী সহিংসতা রোধে ওই তিনটি ইউনিয়নে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

 


মন্তব্য