kalerkantho


গৌরনদীতে প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে সংশয়

গৌরনদী প্রতিনিধি   

১৯ মার্চ, ২০১৬ ১৮:৫২



গৌরনদীতে প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে সংশয়

প্রথম ধাপের ২২ মার্চ ইউপি নির্বাচনে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে প্রচার-প্রচারণা বেশ জমে উঠেছে। এই ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ২৪ জন প্রার্থী, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৬৮ জন প্রার্থী ও সাধারণ সদস্য পদে ২৩১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৮ হাজার ৪৮৪ জন। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ও বিএনপির মনোনীত একক প্রার্থী ছাড়াও নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ৩ প্রার্থী ও কিএসপির ১ প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে রয়েছে। বিদ্রোহী ৪ প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে, উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের ১,২,৩ নম্বর ওয়ার্ডে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে মোসাৎ শামীমা ইয়াছমিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রার্থীদের পোষ্টার ও ব্যানারে ছেয়ে (ঝুলনো) গেছে গৌরনদী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ২২টি হাট-বাজার, ৮টি বাসস্ট্যান্ডের অলিগলি, বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন এলাকা। এসব পোস্টার ও ব্যানারে বড় বড় রশি দিয়ে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে, এক গাছ থেকে আরেক গাছে, এক দেয়াল থেকে আরেক দেয়ালে ঝুলানো হয়েছে। প্রতিদিন চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও সাধারণ সদস্য প্রার্থীরা এবং তাদের লোকজন কাক ডাকা ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এলাকার ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট ভিক্ষা করছে। এলাকায় প্রার্থীদের উঠান বৈঠক, মাইকিং চলছে প্রতিদিন। বিএনপি অধ্যুষিত এ উপজেলায় প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীরা। এ উপজেলায় মূলত লড়াই হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে। খাঞ্জাপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা মো. নুর-আলম সেরনিয়াবাত (নৌকা মার্কা), বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান আকন সিদ্দিকুর রহমান (ধানের শীষ মার্কা), জাপার মনোনীত প্রার্থী এমদাদুল হক (লাঙ্গল মার্কা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী আজাহার তালুকদার (হাতপাখা মার্কা), সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১১ প্রার্থী, সাধারণ সদস্য পদে ৩৩ জন প্রার্থী,  বার্থী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বর্তমান চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান প্যাদা (নৌকা মার্কা), বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আমিনুল ইসলাম শাহীন (ধানের শীষ মার্কায়), বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম খান (আনারস), সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৯ প্রার্থী, সাধারণ সদস্য পদে ৩১ প্রার্থী। চাঁদশী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান কৃষ্ণকান্ত দে (নৌকা মার্কায়), বিএনপির মনোনীত প্রার্থী উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তাইফুর রহমান কচি (ধানের শীষ মার্কায়), সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৭ প্রার্থী, সাধারণ সদস্য পদে ৩০ প্রার্থী, মাহিলাড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক বর্তামান চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু (নৌকা মার্কায়), বিএনপির মনোনীত প্রার্থী বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য সবুজ শিকদার (ধানের শীষ মার্কায়), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জালালউদ্দিন (আনারস), সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১০ প্রার্থী, সাধারণ সদস্য পদে ৩৬ প্রার্থী, বাটাজোর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রব হাওলাদার (নৌকা মার্কায়), বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান আকতার হোসেন বাবুল(ধানের শীষ মার্কায়), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান (আনারস), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা বজলুর রশিদ (হাতপাখা মার্কায়), সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১০ প্রার্থী, সাধারণ সদস্য পদে ৩৫ প্রার্থী, নলচিড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের যুগ্মআহ্বায়ক বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধা (নৌকা মার্কায়), বিএনপির মনোনীত প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মির্জা সেকেন্দার আলী মৃধা (ধানের শীষ মার্কায়),   আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা মীর মাসুদ উদ্দিন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৮ প্রার্থী, সাধারন সদস্য পদে ৩০ প্রার্থী, শরিকল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা ফারুক মোল্লা (নৌকা মার্কায়), বিএনপির মনোনীত প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি বর্তমান চেয়ারমান মনজুর হোসেন মিলন (ধানের শীষ মার্কায়), জাপার গোলাম আজিজ (লাঙ্গল মার্কায়), স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেদা পারভিন (টেলিফোন), স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসান খলিফা (আনারস), সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১৩ প্রার্থী, সাধারন সদস্য পদে ৩৬ প্রার্থী সোমবার উপজেলা রিটানিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

আওয়ামী লীগের মনোনীত ৭ চেয়ারম্যান প্রার্থীর নৌকা মার্কার সমর্থনে অগ্রনী ব্যাংকের পরিচালক অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সংসদ সদস্য আলহাজ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর পুত্র যুবলীগ নেতা সেরনিয়াবাত আশিক আবদুল্লাহ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এইচ.এম জয়নাল আবেদীন, সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মো. হারিছুর রহমান, গৌরনদী উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরী, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান ফরহাদ মুন্সী, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মনির হোসোন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন খানসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রতিদিন উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ করে ভোটারদের কাছে ভোট চাচ্ছেন। অপরদিকে,  বিএনপির মনোনীত ৭ চেয়ারম্যান প্রার্থীর (ধানের শীষ মার্কার) পক্ষে বরিশাল জেলা উত্তর মহিলা বিএনপির সভানেত্রী তাসলিমা বেগম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন মিয়া, যুগ্ম-আহ্বায়ক গোলাম হোসেন মাষ্টার, আকরব মোল্লা, আবু বক্কর গাজী, পৌর বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান, সাধারন সম্পাদক শাহআলম ফকির গণসংযোগ করছেন।

এদিকে সরকার দলীয় নেতাকর্মী কর্তৃক ভোট চুরির আশঙ্কা করে বিএনপির মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মনজুর হোসেন মিলনসহ একাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী বলেন, আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বাঁধার মুখে আমরা নিরবে প্রচার প্রচারনা চালাচ্ছি। হুমকি-ধামকি দিলেও আমরা নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়াবো না। ভোটাররা নিবিঘ্নে ভোট দিতে পারলে  বিপুল ভোটের ব্যবধানে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ধানের শীষ মার্কার প্রার্থীরা জয়লাভ করব।

অপরদিকে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. শাহ্জাহান প্যাদাসহ একাধিক প্রার্থী বলেন, গৌরনদীর বিএনপির নেতাকর্মীরা  ত্রিধাবিভক্ত। বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচনে হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার একটি কৌশলমাত্র। জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবে। আমরা শতভাগ আশাবাদী জনগণ ভোট দিয়ে আমাদেরকে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবে।

বরিশাল জেলা (উত্তর) বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগ মুহূর্তে ক্ষমতাসীন দলের হামলা, ভাংচুর ও হুমকিতে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে সংশয় আরো বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২২ মার্চ সাধারণ মানুষ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার সাহস হারিয়ে ফেলবে। তাই ভোটের অনুকূল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে জোড় দাবি জানান বিএনপির এই নেতা।

 


মন্তব্য