kalerkantho

শুক্রবার । ২০ জানুয়ারি ২০১৭ । ৭ মাঘ ১৪২৩। ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮।


নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণের শিকার

নীলফামারী প্রতিনিধি   

১৭ মার্চ, ২০১৬ ২১:২৩



নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণের শিকার

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় নবম শ্রেণির এক মাদ্রাসার ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। গত বুধবার বিকেলের এ ঘটনায় এলাকাবাসী আশঙ্কাজনক অবস্থায় উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের অবিলের বাজার এলাকা থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সে বর্তমানে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু মারুফ হোসেন ও সহকারী পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান। এঘটনায় বৃহস্পবিার বিকেল পর্যন্ত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ।

এলাকাবাসী জানায়, গত বুধবার বিকেলে অবিলের বাজারের অদুরে একটি ফাঁকা স্থানে শরীরে কাদা-মাটি মাখা ও রক্তাক্ত অবস্থায় ওই ছাত্রীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে এলাকার জহিরুল ইসলামের স্ত্রী আমেনা বেগম। এসময় তার অবস্থার বেগতিক দেখে এলাকাবাসীর সহযোগীতায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করায়।

আমেনা বেগম বলেন,‘আমি ওই মেয়ের কাছে গিয়ে দেখি তার পড়নের কাপড় ভেজা এবং কাদা-মাটি মাখা। এসময় শরীর দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তার সাথে কথা বলে জানতে পারি সে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। অবস্থার বেগতিক দেখে তাকে এলাকার মানুষের সহযোগীতায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেই এবং তার পরিবারের  লোকজনকে খবর দেই। ’

ওই ছাত্রীর বাবা জানান, নানার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করতো তার মেয়ে। বুধবার বিকেলে খবর পেয়ে হাসাপালে ছুটে গিয়ে মেয়ের কাছে ঘটনা জানতে পারেন।

তিনি বলেন, ‘বুধবার দুপুরে মাদ্রাসা ছুটির পর পায়ে হেটে একাই নানার বাড়ি ফিরছিল আমার মেয়ে। পথে দেখা হয় পূর্ব পরিচিত মারুকুল ইসলাম (৩০) নামের এক পিকআপভ্যান চালকের সঙ্গে। মারুকুল পিকআপভ্যান চালিয়ে এসয় ওই পথে যাচ্ছিল। বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার নাম করে ওই পিকআপভ্যানে আমার মেয়েকে তুলে নেয় মারুকুল। কিছু দূর গিয়ে পিকআপে থাকা অপর দুই যুবকের সহযোগীতায় অবিলের বাজারের  অদুরে একটি ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে পিকআপ চালক মারুকুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়। এরপর আমার মেয়ে সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে লোকালয়ে আসে। ’ এঘটনার বিচার দাবি করেন তিনি।

কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান বলেন, বুধবার ঘটনা জানার পর আমি নিজে রাতে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ওই ছাত্রীকে সজ্ঞাহীন আবস্থায় দেখতে পাই। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে গিয়ে তার জবানবন্দী রেকর্ড করি। মেয়েটির জবানবন্দী মোতাবেক আসামীদের শনাক্ত করা হয়েছে, এখন গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে। এঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি অব্যাহত আছে। ’

ওসি বলেন,‘জবানবন্দী মোতাবেক ওই মেয়েকে পিকআপ চালক মারুকুল ইসলাম ধর্ষণ করেছে। এসময় অপর দুই যুবক দাঁড়িয়ে তাকে পাহাড়া দিচ্ছিল। এরপর মেয়েটির রক্তক্ষরণ দেখতে পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। ’


মন্তব্য