kalerkantho


শিক্ষা কর্মকর্তাকে পেটানোর পর অপসারণ দাবি

ধামরাই(ঢাকা) প্রতিনিধি   

১৭ মার্চ, ২০১৬ ২০:০১



শিক্ষা কর্মকর্তাকে পেটানোর পর অপসারণ দাবি

ধামরাইয়ে তিনদিন আগে যাকে পেটালেন, আবার যিনি বাদী হয়ে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধাদান ও পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় থানায় মামলা করেছেন এখন তার অপসারণের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে শিক্ষক সমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। এ সময় শিক্ষকরা ওই দুর্নীতিবাজ শিক্ষা কর্মকর্তা দৌলতর রহমানকে ১২ ঘন্টার মধ্যে অপসারণ করা না হলে বড় ধরনের আন্দোলন করবেন বলে হুশিয়ারী দেওয়া হয়।

মানববন্ধন শেষে সমাবেশে শিক্ষা কর্মকর্তার দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে বক্তারা বলেন, নতুন জাতীয়করণ শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণের পর টাইম স্কেল প্রদানের ক্ষেত্রে নানা তালবাহানা করে শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দৌলতর রহমান। আবার কোনও শিক্ষকের এক বছর,কারো ২/৩ বছরের টাইম স্কেলের টাকা বকেয়া রয়েছে। প্রতি বছরের জন্য এক হাজার টাকা করে উৎকোচ দিতে হয় ওই শিক্ষা কর্মকর্তাকে। টাকা না দিলেই তালবাহানা করে শিক্ষকদের নানা ভাবে হয়রানি করে শিক্ষা কর্মকর্তা।

এছাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দৌলতর রহমান নিয়মবর্হিভূত ভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছে সিলেবাস বিক্রি করে দেড় লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। কোন শিক্ষক অন্য উপজেলা থেকে নিজ এলাকায়(নিজ উপজেলায়) ৭/১(খ) ধারা মোতাবেক বদলি হয়ে আসা অগ্রাধিকার থাকলেও শিক্ষা কর্মকর্তা নানা কৌশলে তা এড়িয়ে টাকার বিনিময়ে অন্য জেলার শিক্ষকদের বদলি করে আনার ব্যবস্থা করেন বলে জানান ভূক্তভোগীরা। এছাড়া ঢাকা জেলার বাইরে থেকে শতকরা ১০জন শিক্ষক ধামরাইয়ে আসার সরকারী নীতিমালা তাকলেও তা না মেনে শিক্ষা কর্মকর্তা  সুকৌশলে মন্ত্রী-সচিবের সুপারিশের অজুহাত দেখিয়ে টাকার বিনিময়ে অন্য শিক্ষকদের বদলি করে আনেন। এতে ধামরাইয়ের শিক্ষকরা নিজ উপজেলা আসতে পারছে না বলে জানান বক্তারা।

এসময় বক্তারা বলেন, আগামী ১২ ঘন্টার মধ্যে দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর শিক্ষা কর্মকর্তা দৌলতর রহমানকে অপসারণ করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম,শিক্ষক রবিউল ইসলাম ও ইন্তাজ উদ্দিন প্রমুখ। এছাড়াও যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও শ্রমিক লীগের নেতাকর্মী মানবন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহন করেন। এ বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা দৌলতর রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ শরিফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত সোমবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দৌলতর রহমানকে তার কক্ষে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোহাদ্দেস হোসেন চড় থাপ্পর কিলঘুষি মারেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার দৌলতর রহমান বাদি হয়ে সরকারি কাজে বাধা ও মারপিটে আহত করার অভিযোগ এনে মোহাদ্দেস হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলা নং ১৪।

উল্লেখ তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় মেরামতের জন্য বেকী গাড়াইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঘোড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ চারটি বিদ্যালয়ের নাম শিক্ষা কর্মকর্তা দৌলতর রহমানের কাছে মৌখিকভাবে সুপারিশ করেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোহাদ্দেস হোসেন। কিন্তু স্থানীয় সংসদ সদস্য এমএ মালেক ওই চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয় বাদ রেখে গুরুত্বানুসারে অগ্রাধিকারভিত্তিতে অন্য ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম লিখে দেন। মেরামতের তালিকায় ভাইস চেয়ারম্যানের দেওয়া চারটি বিদ্যালয়ের নাম না থাকায় দৌলতর রহমানকে লাঞ্ছিত করা হয়।


মন্তব্য