kalerkantho


লালমোহনে সংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ

ভোলা প্রতিনিধি   

১৬ মার্চ, ২০১৬ ১৯:০৮



লালমোহনে সংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ

ভোলার লালমোহন উপজেলা সদরে আওয়ামী লীগ দলীয় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব চলাকালে দৈনিক যুগান্তর, আরটিভি প্রতিনিধিসহ সাংবাদিকদের ওপর বর্বর হামলার প্রতিবাদে আজ বুধবার ভোলা প্রেসক্লাবে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটি, টেলিভিশন জার্নালিস্ট ফোরামের সাংবাদিকরা। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে চিহ্নিত ও অভিযুক্ত  পৌর যুবলীগ ও পৌর ছাত্রলীগের ক্যাডারদের গ্রেপ্তার দাবির পাশপাশি লালমোহন থানার ওসি আক্তারুজ্জমানের প্রত্যাহার দাবি করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে , গত কয়েকদিন ধরে লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়ন, লালমোহন ইউনিয়ন ও ধলিগৌরনগর এলাকায় পৌর যুবলীগ, পৌর ছাত্রলীগের ক্যাডার বাহিনী (বিএনপি আমলের মৌমাছি বাহিনী হালে ছাত্রলীগ যুবলীগ) অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি দলীয় প্রার্থীদের নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর ও হুমকি-ধামকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। এর জের ধরে মঙ্গলবার লালমোহন ইউনিয়ন নির্বাচনের স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী কামরুল ইসলামের ৩টি নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করে ১৫ জনকে পিটিয়ে আহত করার পর রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মরহুম মুখলেসুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুলের উপজেলা সদরের
বাসা-বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং উত্তর ব্যাংক ভবনের নিচতলায় হামলা করে তালা ঝুলিয়ে দেয়। ওই সময় যুগান্তর প্রতিনিধি অমিতাভ অপু, আরটিভির ক্যামেরাপার্সন মোঃ ইউছুফ, স্থানীয় সাংবাদিক মকসুদুর রহমানসহ কয়েকজন সাংবাদিক ছবি ও ভিডিও চিত্র ধারণ করতে গেলে ক্যাডাররা সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে। এ সময় ক্যাডাররা ক্যামেরা ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ক্যামেরাপার্সন ইউছুফকে মাটিতে ফেলে ১৫ / ২০ জন তার বুকে পিঠে লাথি মারে। এমনকি ইউছুফকে মুর্মুর্ষ অবস্থায় লালমোহন হাসপাতালে ভর্তি করলে ৩ শথাধিক ক্যাডার রাবিহনী হাসপাতাল এক ঘন্টা ঘিরে রেখে ধারণকৃত ছবি ও ভিডিও’র মেমোরী কার্ড ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ সৃস্টি করে। এ সময় লালমোহনের যুগান্তর প্রতিনিধি জসিম জনি ও মাকসুদুর রহমান ক্যাডার বাহনীর তোপের মুখে পড়েন। এক পর্যায়ে লালমোহন উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ফখরুল আলম হাওলাদার, যুবলীগের সম্পাদক আবুল হাসান রিমন, স্বেচ্ছাসেক লীগের সম্পাদক তানজিল হাওলাদার ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।


এ ব্যাপারে আহত সাংবাদিক ও স্থানীয়রা জানান, এমন সন্ত্রাসী ঘটনার নেতৃত্ব দেন লালমোহন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী শাজাহানের পুত্র  ছাত্র লীগ নেতা সোহেল, পৌর যুবলীগের সভাপতি ফরাদ হোসেন মেহেরের মৌমাছি বাহিনীর সদস্য পৌর ছাত্রলীগ সভাপতি জামাল উদ্দিন বেলাল, পৌর যুবলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, ৪ নং ওয়ার্ডের আলমগীর কষাই’র পুত্র কামাল, পৌর ছাত্রলীগ সম্পাদক জোবায়ের, হেমায়েত মাওলারার পুত্র ফরিদ, ৮ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা আকবরসহ শতাধিক বাহিনী।

এদিকে থানা থেকে মাত্র ২০০ গজের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটলেও লালমোহন থানার ওসি আখতারুজ্জামান জানান, এমন কোন ঘটনা ঘটেনি।

এ বিষয়ে তিনি কিছু শোনেননি।

ওসির এমন বক্তব্য শুনে আজ বুধবার ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাংবাদিকরা। সাংবাদিকরা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ওসির সামনেই ঢাকা, খুলনা অঞ্চলের অস্ত্রধারী ক্যাডাররা লালমোহনের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও শহর এলাকায় ঘুরে মহড়া দিয়ে বেড়ালেও ওসি বলেন দেখেননি, শোনেন নি। এমন ওসি দায়িত্ব পালন করলে ২২ ফেরুয়ারির ইউপি নির্বাচনে ওই এলাকায় রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে স্মারকলিপি পেয়ে জেলা প্রশাসক মো. সেলিম উদ্দিন ও পুলিশ সুপার মোহা. মনিরুজ্জামান জানান, দোষীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 


মন্তব্য