kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ । ৬ মাঘ ১৪২৩। ২০ রবিউস সানি ১৪৩৮।


মেহেন্দিগঞ্জে আওয়ামী লীগের কর্মী খুন

বরিশাল অফিস    

১৬ মার্চ, ২০১৬ ১৩:০৪



মেহেন্দিগঞ্জে আওয়ামী লীগের কর্মী খুন

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে নির্বাচনী সহিংশতায় সমীর চারু (৩৮) নামে এক আওয়ামী লীগকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের মাদারবুনিয়া গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত সমীর চারু ওই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগকর্মী। এ ঘটনায় তার মা পারুল বেগমসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে পারুল বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অস্ত্রপচার কক্ষে রাখা হয়েছে।

ভাষানচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দলীয় চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম চুন্নু কালের কণ্ঠকে জানান, নিহত সমীর চারু তাঁর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কর্মী। নির্বাচনী প্রচারণায় নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করায় বিদ্রোহী প্রার্থী মুজিবুর রহমানের কর্মীরা তাঁকে হুমকি দিয়ে আসছিল। একপর্যায়ে আজ বুধবার সকাল ৮টার দিকে সমর্থকরা তাঁর বাড়িতে ঢুকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। তার পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে তাঁদেরকেও উপর্যুপরি কুপিয়ে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।

বর্তমান চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম চুন্নু আরো জানান, ঘটনার পর আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা তাঁদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে মারা যান সমীর চারু। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আহতদের শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি বলেন, "আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরাই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। " আহতদের সঙ্গে কথা বলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবেন বলে জানান তিনি।    

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মুজিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, "জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিবেশী ফরিদ হোসেনের সঙ্গে সমীর চারুর সকালে ঝামেলা হয়েছে। একপর্যায়ে দুই পক্ষই দেশি অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে প্রতিপক্ষের হামলায় ঘটনাস্থলেই সমীর চারু নিহত হন। " নির্বাচনী সহিংসতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "ফরিদ আনারস প্রতীকের সমর্থক আর সমীর নৌকার সমর্থক। কিন্তু তাদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে পূর্ব শক্রতার জের ধরে। রাজনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য চেয়ারম্যান প্রার্থী বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা  করছেন। "  

ভাষানচরের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার আমিনুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, "নির্বাচনী সহিংসতায় এক যুবককে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। স্থানীয়রা বিষয়টি আমাকে মুঠোফোনে জানিয়েছে। সে অনুযায়ী পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমাকে জানাবেন। "  

 


মন্তব্য