kalerkantho


চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচন

আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিএনপি প্রার্থীর অপপ্রচারে নামার অভিযোগ

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

১৫ মার্চ, ২০১৬ ২৩:৪৪



আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিএনপি প্রার্থীর অপপ্রচারে নামার অভিযোগ

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ও তার দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক নাটক সাজিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলমগীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বিএনপি প্রার্থীর পথসভায় হামলা ও গুলি বর্ষণ এবং আগের দিন রবিবার সকালে বিএনপি প্রার্থীর সহধর্মীনিকে শারিরিক লাঞ্ছিত করার মতো অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিএনপি যে অভিযোগ তুলেছেন তারও কোন সত্যতা নেই।

প্রকৃতপক্ষে সোমবার সন্ধ্যায় পথসভা চলাকালে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় কয়েকজন ব্যক্তি আসছে.........আসছে...... বলে চিৎকার দিলে হুড়োহুড়িতে পড়ে যায় তাদের মাঝে। এ সময় এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে গিয়ে এবং একজনের ওপর আরেকজন পড়ে আঘাতপ্রাপ্ত হন। শুধু তাই নয়, এ ঘটনার পর পরই বিএনপি প্রার্থী নুরুল ইসলাম হায়দার হাসপাতালে ভর্তি হলেও কোথাও গুলির আঘাতের চিহ্ন দেখাতে পারেননি তিনি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসকও হায়দারের শরীরে কোথাও গুলির আঘাতের চিহ্ন পায়নি বলে রেজিষ্ট্রারে উল্লেখ করেছেন। এর পরও শুধুমাত্র ভোটারদের বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দিয়ে ফায়দা লুটতে একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ আনেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলমগীর চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বিএনপির পথসভায় কোন ধরনের হামলা বা গুলি বর্ষণের ঘটনা না ঘটলেও কিছু কিছু পত্রিকায় তা অতিরঞ্জিত করে প্রকাশ করা হয়েছে। সংবাদটি প্রকাশের ক্ষেত্রে কোন ধরনের যাচাই-বাছাই করা হয়নি। আবার পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি ফটোকপি করে ভোটারদের মাঝেও বিলি করছে বিএনপি কর্মীরা।

এতে আরো বলা হয়, বিএনপি প্রার্থী নিশ্চিত পরাজয় জেনে এসব অপপ্রচারে মেতে উঠেছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী মেয়র নির্বাচিত হলে পৌরসভার কার্যালয় করাইয়াঘোনায় চলে যাবে’ বিএনপির পক্ষ থেকে একটি অঞ্চলের ভোটারদের মাঝে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, যা কোনদিনও সম্ভব নয়।

সংবাদ সম্মেলনে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আলম বলেন, কুখ্যাত রাজাকার পুত্র বিএনপির প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র নুরুল ইসলাম হায়দার গতবার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের উপকারে আসে তেমন কোন প্রকল্প গ্রহণ করেননি। ভূঁয়া প্রকল্প দেখিয়ে ও বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন পৌর তহবিলের কোটি কোটি টাকা। পৌরসভা কার্যালয়ে অফিস না করে বান্দরবানের লামা উপজেলার ইয়াংছায় পাহাড়ে আত্মগোপনে থেকে এবং বিগত সময়ে আন্দোলনের নামে আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে পুরো ৫টি বছর কেটেছে তার। তাই এবার ভোট না পাওয়ার বেদনায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর গণজোয়ার দেখে নানা ধরণের মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে ভোটারদের বিভ্রান্তিতে ফেলে অনুকম্পা পাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবে এসব মিথ্যা অভিযোগ করে ভোটারদের অনুকম্পা পাওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হবে তার। জনগণ ঠিকই এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে আগামী ২০ মার্চ ভোটের দিন ব্যাপক ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে জয়ী করবে।

তিনি আরো বলেন, কক্সবাজারে আজ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা অতীতের চাইতে বেশি ঐক্যবদ্ধ। তাই মাথা খারাপ হয়ে গেছে বিএনপি ও তাদের প্রভূদের। তাছাড়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। প্রতিটি নির্বাচনেও গণতান্ত্রিকভাবে সকল রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনও যাতে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সর্বজন গ্রহনযোগ্য হয় সেদিকেই দৃষ্টি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। কোন ধরণের হস্তক্ষেপ ছাড়াই আগামী ২০ মার্চ এখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং আমার ভোট আমি দেব, যাকে ইচ্ছে তাকে দেব নীতিতে ভোটারেরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও চকরিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, চকরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ আ.ক.ম গিয়াস উদ্দিন, পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাবেক আহবায়ক ও পৌর কাউন্সিলর ছৈয়দ আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফজলুল করিম সাঈদী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন জয়নাল, আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুর রশীদ দুলাল, পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু, সহ-সভাপতি মো. ওয়ালিদ মিল্টন, সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরী, যুবলীগ ও শ্রমিকনেতা কক্সবাজার বার্তার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু, আওয়ামী লীগ নেতা সেকান্দার বাদশা নাগু সওদাগর, চকরিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তপন কান্তি দাশ, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবলা দেবনাথ, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কাউছার উদ্দিন কছির, পৌরসভা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম সোহেল, পৌরসভা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আরিফ মাঈনউদ্দিন রাসেল।


মন্তব্য