kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


সীতাকুণ্ডে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতার আত্মহত্যা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ মার্চ, ২০১৬ ২১:০২



সীতাকুণ্ডে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতার আত্মহত্যা

ইন্স্যুরেন্সের নামে গ্রামবাসী থেকে নেওয়া প্রায় ২০ লাখ টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেছেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতা দীপক চন্দ্র দে (৬০)। গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত দীপক হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সীতাকুণ্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক।

এ ব্যাপারে সীতাকুণ্ড থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল আলম জানান, এলাকাবাসীর দেওয়া খবরের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ঘোড়ামারা পাক্কা মসজিদ এলাকার আবু তাহেরের ভাড়া ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দীপকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দীপক উপজেলা মহাদেবপুর এলাকার (৪নং ওয়ার্ড) রামকুমার মহাজনের ছেলে।

তিনি জানান, এর আগে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা দীপক চন্দ্রকে পেয়ে এলাকাবাসী গতকাল সোমবার পাওনা টাকা আদায়ের জন্য তাকে একটি ঘরে আটক করে রাখে। সে ঘরেই দীপক নিজের বেল্ট গলায় লাগিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাহেরা বেগম নামে এক নারীকে থানায় নেওয়া হয়েছে। তার মাধ্যমেই দীপক স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করত।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে এসআই আশরাফুল আলম জানান, দীপক সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতেন। তিনি ঘোড়ামারা এলাকার অসংখ্য নারী-পুরুষ থেকে ইন্স্যুরেন্স করে দেওয়ার কথা বলে ‘প্রায় ২০-২৫ লাখ’ টাকা নিয়ে যান। কিন্তু এসব টাকা প্রতিষ্ঠানে জমা দেননি বলে অভিযোগ করে এলাকাবাসী। এ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে বেশ কিছুদিন ধরে পলাতক ছিলেন দীপক।

এদিকে দীপককে আটকের পর এলাকাবাসী তার পরিবারকে জানালেও তারা কেউ দীপককে জিম্মায় নিতে আসেনি বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি জানান, তার স্ত্রী ও ছেলেকে ফোন করা হলে ‘আমরা এসব ঝামেলাই নেই’ বলে জানিয়ে দেন তারা।

আশরাফুল আলম জানান, দীপকের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, দীপক হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সীতাকুণ্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া উদীচীর আঞ্চলিক শাখার সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।

 


মন্তব্য