kalerkantho


কেরানীগঞ্জে নির্মানাধীন ভবন ভাঙতে এসে জনরোষের মুখে রাজউকের ম্যাজিষ্ট্রেট

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ২১:৫৪



কেরানীগঞ্জে নির্মানাধীন ভবন ভাঙতে এসে জনরোষের মুখে রাজউকের ম্যাজিষ্ট্রেট

কেরানীগঞ্জ উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের ইমামবাড়ী এলাকায় বিনা নোটিশে নির্মানাধীন একটি বহুতল ভবন ভাঙতে আসে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। ভবন ভাঙা শুরু হলেই ভবনের মালিকগণ ও এলাকাবাসী ধিরে ধিরে জড়ো হয়ে রাজউকের মেজিস্ট্রেটের কাছে ভাঙার অনুমতিপত্র দেখতে চায়। রাজউকের কর্মকর্তারা তাদের কোন ডকুমেন্টস না দেখিয়ে তাদের ভাঙার কাজ চালিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে ভবনের দক্ষিণ পশ্চিমাংশের একাংশ বুলডেজার ও স্কেভেটর দিয়ে ভেঙে ফেললে এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরে এলাকাবাসী ক্ষুদ্ধ হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ও রোষানলের মুখে পুলিশ প্রহরায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হন রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও কর্মকর্তারা। আজ রবিবার দুপুরে এ ঘটনাটি ঘটে।

ভবন ভাঙ্গার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. নাসির উদ্দিন দাবি করেন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন না নিয়ে বিল্ডিং কোড অনুসরণ না করেই ভবনটি নির্মিত হচ্ছিল। এজন্য তারা সেটি ভেঙ্গে দিয়েছেন।

এলাকাবাসী ও ভবন মালিক সূত্রে জানা যায়, আজ রবিবার সকাল ১১টার দিকে রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. নাসির উদ্দিনের নের্তৃত্বে ভবন ভাঙ্গার এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন রাজউকের অথরাইজড অফিসার মো. নুরুজ্জামান, আলম হোসেন, পরিদর্শক আব্দুর রহমানসহ ১৫/২০ জন কর্মকর্তা। তাদের সহযোগিতার জন্য শতাধিক পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলো। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নির্দেশে ১টি বুলডেজার ও ১টি অত্যাধুনিক স্কেভেটর দিয়ে ভবনটির পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশের ৩য় তলা পর্যন্ত আংশিক ভেঙে ফেলে। এ সময় ভবনের একাধিক মালিক বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

ভবনের দুই মালিক হাজী মো. ফারুক ও আমিনুল বেপারী অভিযোগ করেন, কোন নোটিশ না দিয়েই রাজউকের লোকজন ভবনটি ভাঙতে আসে। আমরা একাধিকবার তাদের কাছ থেকে ভবন ভাঙার অর্ডার দেখতে চাইলে তারা কোন কাগজ আমাদের দেখায়নি। ভবন ভাঙার অর্ডার হিসেবে তারা বারবার শুধু একটি ফাইল দেখিয়েছে। তবে ফাইলের ভিতর আসলে কি কাগজপত্র রয়েছে তা একবারও আমাদেরকে দেখায়নি। দেখতে চাইলে উল্টো আমাদেরকে আটক করার হুমকি দিয়েছে।

ভবনের আরেক মালিক নূর আলম বলেন, ঠুনকো অভিযোগে রাজউকের লোকজন ভবনটি ভেঙ্গে দিয়েছে। কেরানীগঞ্জের ৯০ ভাগ ভবন রাজউকের অনুমোদন না নিয়ে স্থানীয়ভাবে অনুমোদন নিয়ে নির্মিত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থানেশী মহলের টাকা খেয়ে রাজউক কর্তৃপক্ষ এ কাজ করে।

এদিকে দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নাসির উদ্দিনকে ঘিরে বিক্ষোভ করতে থাকে। এক পর্যায়ে এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে পড়লে পুলিশ প্রহড়ায় সেখান থেকে সটকে পড়েন তিনি।

এ ব্যাপারে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, রাজউক আগানগর ইউনিয়নের ইমামবাড়ী এলাকায় একটি ভবন ভাঙার জন্য আমাদের কাছে পুলিশি সহায়তা চাইলে আমরা আমাদের পুলিশ ফোর্স দিয়ে তাদেরকে সহায়তা করেছি।

 


মন্তব্য