kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রৌমারীতে ভুয়া কাজিকে গণধোলাই

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

১২ মার্চ, ২০১৬ ২২:১৩



রৌমারীতে ভুয়া কাজিকে গণধোলাই

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে আমজাদ হোসেন নামের এক ভুয়া কাজিকে গণধোলাই দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিয়ম না মেনে বাল্য (৭ম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীর) বিয়ে রেজিষ্ট্রি করতে গেলে বিক্ষুদ্ধ জনতার মুখে পড়েন ওই ভুয়া কাজি।

এ সময় তার কাছ থেকে বিয়ে রেজিষ্ট্রির নকল ভলিয়ম বই উদ্ধার করা হয়। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার মশালের চরে ওই ঘটনা ঘটে।

রৌমারীর চরশৌলমারী ইউনিয়নের মশালের চর ওয়ার্ড (৬নং) মেম্বার নুর হোসেন জানান, আমজাদ হোসেন হোসেন নামের ওই ব্যক্তির কোনো লাইসেন্স নেই। সে একজন ভুয়া কাজি। মেয়ের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে বিয়ে রেজিষ্ট্রির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। যে মেয়েটিকে সরকারি আইন না মেনে দিয়ে দেওয়া হচ্ছিল সে চরশৌলমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির একজন মেধাবি ছাত্রী। এলাকাবাসি বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে আটক করে। একে তো বাল্য বিয়ে তার ওপর ভুয়া প্রমাণিত হওয়ার পর বিক্ষুদ্ধ জনতা তাকে ধোলাই করে। পরে ইউপি চেয়ারম্যানের অনুরোধে তাকে থানায় না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় মেয়ের পিতা ফুলচান মিয়ার সঙ্গে যোগযোগ করেও মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে মশালেরচরের বাসিন্দা শিক্ষক আসাদুজ্জামান, নুরুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান ও শুকুর উল্লাহ জানান, ওই ভুয়া কাজি এর আগেও অনেক বাল্যবিয়ে ভুয়া রেজিষ্ট্রি করেছেন। এর প্রমাণ পাওয়ার পরই তাকে ধালাই দেওয়া হয়। আমজাদ হোসেন নামের ওই ভুয়া কাজির বাড়ি একই উপজেলার বন্দবেড় গ্রামে।

তবে অভিযুক্ত আমজাদ হোসেন বলেন, আমি বন্দবেড় ইউনিয়নের কাজি মমতাজুর রহমানের পক্ষে কাজ করি। ওনার কাছ থেকে ভলিয়ম বই নিয়ে বিয়ে রেজিষ্ট্রি করে থাকি। এলাকার লোকজন না বুঝে আমাকে মারধর করেছে এবং ভলিয়ম বই ছিনিয়ে নিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বন্দবেড় ইউনিয়নের কাজি মমতাজুর রহমান বলেন, আমজাদ হোসেন আমার পক্ষে কাজ করে এটা সত্যি কিন্তু ওই দিনের ওই বিয়ে এবং অন্য ইউনিয়নে যাওয়ার ঘটনা আমাকে অবহিত করা হয়নি। আমাকে না জানিয়ে সে বাল্যবিয়েতে গিয়েছেন।

অপরদিকে চরশৌলমারী ইউনিয়নের প্রকৃত কাজি আজিজুল হক বলেন, ওই বিয়ের জন্য আমাকেও ডাকা হয়েছিল কিন্তু বাল্যবিয়ে দেখে আমি রাজি হইনি। অন্যায় আমার এলাকায় বাল্যবিয়ে পড়ানোর মজা ওই পাইছে।

এ ব্যাপারে রৌমারী থানার ওসি এবিএম সাজেদুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। থানায় কেউ অভিযোগও করেনি। তাই কিছু বলতে পারছি না।


মন্তব্য