টেকনাফে হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ ইয়াবা-335129 | সারাবাংলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০১৬। ১৬ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৮ জিলহজ ১৪৩৭


এসআইসহ আহত ৬

টেকনাফে হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ ইয়াবা ব্যবসায়ীকে ছিনতাই

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১২ মার্চ, ২০১৬ ২০:২১



টেকনাফে হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ ইয়াবা ব্যবসায়ীকে ছিনতাই

কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী ও ১২ মামলার পলাতক আসামি নুরুল হুদাকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে ইয়াবা সিন্ডিকেটের সদস্যরা। এতে একজন উপ পরিদর্শকসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত এই ইয়াবা ব্যবসায়ী নুরুল হুদা আগামী ২৭ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের একজন সদস্য ( ইউপি মেম্বর) প্রার্থী। গতকাল শুক্রবার দিবাগত হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা গ্রামে তার (নুরুল হুদা) আলীশান বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার রাতে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা গ্রামের শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী ও পলাতক আসামি নুরুল হুদা বাড়িতে অবস্থান নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণার গোপন বৈঠক করছিলেন। এমন সংবাদ পেয়ে টেকনাফ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) সেফায়েত হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল নুরুল হুদার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ তৎক্ষনাৎ তার হাতে হাতকড়াও পরিয়ে দেয়। এমন সময় তার বাহিনীর লোকজন দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র, দা, লাঠি নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

সূত্র আরো জানায়, নুরুল হুদার বাহিনীর সদস্যদের হামলার মুখে মারধরের শিকার পুলিশের দল পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। এ সময় আনসার সদস্য সুলতান আহমদকে একা পেয়ে ইয়াবা সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাকে বেধড়ক পিটাতে থাকে। খবর পেয়ে থানা পুলিশের জরুরী দায়িত্বররত উপ পরিদর্শক সুবীর পালের নেতত্বে আরেকটি পুলিশের দল ঘটনাস্থলে যান। ইয়াবা সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাদের ওপরেও হামলা চালায়। এতে পাচঁ পুলিশ সদস্য আহত হন। তারা হলেন-টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের এসআই সুবীর পাল, পুলিশ সদস্য দিদারুল আলম, মো. আলা উদ্দিন, আনসার সদস্য শহিদুল ইসলাম ও সোলতান আহমদ এবং গাড়ী চালক শুকুর। এদের মধ্যে আনসার সদস্য সোলতান আহমদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

টেকনাফ হাসপাতালের চিকিৎসক মোহাম্মদ মান্নান জানিয়েছেন, আহত অন্যদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার সদর হাপাতালে চিকিৎসাধীন আনসার সদস্য সোলতান আহমদ বলেন, এসআই সেফায়েতের নেতৃত্বে পুলিশের দল নুরুল হুদার বাড়িতে অভিযানে হামলার সময় তাকে ফেলে পুলিশের সবাই পালিয়ে যায়। পরে আরেকটি পুলিশের টিম তাকে উদ্ধার করতে আসলে তাদের ওপরও হামলা চালায়।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মজিদ কালের কণ্ঠকে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অপরদিকে এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় পলাতক ইয়াবা গডফাদার নুরুল হুদার আত্মীয়-স্বজনসহ সমর্থকরা বলাবলি করছেন, পুলিশকে দফায় দফায় টাকা দিয়ে নুরুল হুদা পলাতক অবস্থায় নির্বাচনে লড়ছেন। এজন্য তাকে কোনভাবেই গ্রেপ্তারে অভিযান না চালানোর কথা। কিন্তু পুলিশ সেই কথা রক্ষা না করায় এ হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তবে থানার ওসি এসব ডাহা মিথ্যা বলে জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২১ মার্চ টেকনাফের স্থলবন্দর সংলগ্ন নাফনদীর জালিয়ারদিয়া নামক স্থানে র‌্যাব ও বিজিবির সাথে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় উক্ত নুরুল হুদার বড় ভাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা গডফাদার নুর মোহাম্মদ নিহত হয়েছিলেন।

মন্তব্য