পরীক্ষার্থীরা ছুটে গেলেন ইউএনও’র-335121 | সারাবাংলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭


রৌমারীতে টাকার বিনিময়ে নকলে সহযোগিতা

পরীক্ষার্থীরা ছুটে গেলেন ইউএনও’র কাছে!

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

১২ মার্চ, ২০১৬ ১৯:৪৫



পরীক্ষার্থীরা ছুটে গেলেন ইউএনও’র কাছে!

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে এসএসসি’র ব্যবহারিক পরীক্ষায় নকলের সহযোগিতা আর বেশি নম্বরের কথা বলে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ নিয়ে অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ গতকাল শুক্রবার দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর এলাকায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। পত্রিকায় সংবাদ আসার পর শৌলমারী এমআর উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের অনেক পরীক্ষার্থী আজ শনিবার ছুটে যায় ইউএনও’র (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) বাসায়। এ সময় তারা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন অবৈধ ভাবে টাকা আদায়ের।

পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, জনপ্রতি এক হাজার টাকার, এক টাকাও কম নেয় না শিক্ষকরা। দু-একজন পরীক্ষার্থী টাকা দিতে না পারায় বৃহষ্পতিবার তাদের ব্যবহারিক পরীক্ষায় নকলের সুবিধা দেয়া হয়নি। একই সঙ্গে যারা সাংবাদিকদের কাছে টাকা আদায়ের কথা স্বীকার করেছে তাদেরকে ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় শিক্ষকরা। এসব ঘটনায় পরীক্ষার্থীরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে এবং ইউএনও’র কাছে গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।

এদিকে ইউএনও শংকে কুমার বিশ্বাস বলেন, ১৫/২০জন পরীক্ষার্থী আমার বাস ভবনে এসেছিল। তারা শিক্ষকদের অবৈধ টাকা আদায়ের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আমরা রবিবার ওই বিষয়ে ব্যবস্থা নিব, এটা নিশ্চিত থাকেন। প্রয়োজনে পরীক্ষা কেন্দ্রে বাতিলসহ অভিযুক্ত শিক্ষকদের কেন্দ্র থেকে বরখাস্ত করা হবে।

অপরদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকরা অভিযোগকারি পরীক্ষার্থীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ফেল করার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো কোনো পরীক্ষার্থীর টাকা ফেরতসহ উপরি টাকা দিয়ে অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য শিক্ষকরা তৎপরতা শুরু করেছে। এ কাজে শিক্ষকরা সরকারি দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতা নিচ্ছে। এমন কথা বলেছেন অনেক পরীক্ষার্থীই।

উল্লেখ্য, উপজেলার প্রায় সব স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নকলের সুবিধা দেওয়ার কথা বলে জনপ্রতি এক হাজার করে টাকা আদায় করেছে। এতে প্রতি বিষয়ের জন্য ২০০ টাকা নির্ধারণ করেছে তারা। যাদের ৫ বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা রয়েছে তাদের জন্য এক হাজার আর দুই বিষয়ধারীদের জন্য ৫০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। যারা ওই ফি দিবে না তাদেরকে ব্যবহারিক পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেয়া হবে-এমন হুমকিও দিয়েছেন প্রধান শিক্ষকরা। এতে উপজেলার তিন পরীক্ষা কেন্দ্রে মানবিক ও বিজ্ঞান বিভাগের ১৯৪৩ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অবৈধ ভাবে প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে শিক্ষকরা।

মন্তব্য