বঙ্গবন্ধুর ছবি ছিড়ে ফেলার ঘটনায়-335096 | সারাবাংলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০১৬। ১৬ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৮ জিলহজ ১৪৩৭


ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা

বঙ্গবন্ধুর ছবি ছিড়ে ফেলার ঘটনায় পাথরঘাটায় সড়ক অবরোধ

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

১২ মার্চ, ২০১৬ ১৭:৪৫



বঙ্গবন্ধুর ছবি ছিড়ে ফেলার ঘটনায় পাথরঘাটায় সড়ক অবরোধ

বরগুনার পাথরঘাটায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দলীয় অফিস ও অফিসে রাখা জাতির জনক ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছিড়ে ফেলেছে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা। এ ঘটনার জের ধরে বিচার দাবি করে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে আজ শনিবার বেলা ১১টায় মহাসড়ক আবরোধ করে প্রতিবাদ করে স্থানীয় জনতা। বরগুনায় সংবাদ সম্মেলন করে এ হামলার বিচার দাবি করেছে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর সমর্থকগণ। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী আকন মোহাম্মদ সহিদ হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার রাতে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি)নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আকন মো. সহিদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের অফিসে হামলা-পাল্টাহামলা ও মোটসাইকেল আগুনে পুড়িয়ে ফেলায় সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয় স্থানীয় ছাত্র লীগের সদস্য মোস্তাক হোসেনের একটি মোটরসাইকেল প্রতিপক্ষ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে। রাতেই র‌্যাব-৮ এর পটুয়াখালী ক্যাম্পের ফোর্স ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলে সাংবাদিকদের জানান আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর ভাই গোলাম অহিদ।

কালমেঘা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেম্বর গোলাম ফারুক অভিযোগ করে জানান, শুক্রবার রাত প্রায় সোয়া ১০টার দিকে সোনালী বাজারস্থ ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের চেয়ার, টেবিল ভাঙচুর করে প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আকন মো. সহিদের সমর্থকরা। এ সময় তারা কার্যালয়ে রাখা বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য নাসিমা ফেরদৌসী, প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সবুর টুলুর ছবি ছিড়ে ফেলে। এ ঘটনার জের ধরে শনিবার বেলা ১১ টায় আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম নাছিরের সমর্থকরা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে। ফলে ঝালকাঠি, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দুরদুরান্তের যাত্রীবাহী বাসের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। খবর পেয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেলায়েত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. জাবির হোসেন পরিস্থতি শান্ত করলেও তাৎক্ষণিক সড়ক অবরোধ তুলে নিতে ব্যর্থ হয়।

সড়ক অবরোধের নেতৃত্বে থাকা উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুর করে  ছিড়ে ফেলতে পারে তাদের বিচার চাই। যতক্ষণ না পর্যন্ত তাদের বিচার কিংবা গ্রেপ্তার করা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা সড়ক অবরোধ রাখব।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে সদ্য বহিস্কৃত আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকন মো. সহিদ বলেন, দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর কিংবা বঙ্গবন্ধুর ছবি ছিরে ফেলার প্রশ্নই উঠে না। বরং আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী গোলাম নাছিরের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা আমাদের কর্মীর ওপর হামলা করে, নির্বাচনী ক্যাম্পে তালা মেরেছে।

তিনি আরও বলেন, গোলাম নাছিরের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা আমার নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা করেই আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন।

এ ব্যাপারে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস.এম. জিয়াউল হক বলেন, পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য সরজমিনে পুলিশ রয়েছে। হামলা ভাঙচুরের বিষয় গোলাম নাছির একটি অভিযোগ দিয়েছেন। আইনগত ব্যবস্থা নেও য়া হবে।

মন্তব্য