কলারোয়ায় বাবা-ছেলে, স্বামী-স্ত্রী ও-334833 | সারাবাংলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

রবিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১০ আশ্বিন ১৪২৩ । ২২ জিলহজ ১৪৩৭


কলারোয়ায় বাবা-ছেলে, স্বামী-স্ত্রী ও নানা-নাতির ভোটযুদ্ধ

মোশাররফ হোসেন, সাতক্ষীরা    

১১ মার্চ, ২০১৬ ২১:১৭



কলারোয়ায় বাবা-ছেলে, স্বামী-স্ত্রী ও নানা-নাতির ভোটযুদ্ধ

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ প্রথম ধাপের নির্বাচনে বাবা-ছেলের লড়াই জমে উঠেছে। উপজেলার ৯ নম্বর হেলাতলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে জয়ের জন্য বাপ বেটার ভোটযুদ্ধের বিষয়টি এলকাবাসীরও নজর কেড়েছে। এলাকার ভোটাররা জানান, নির্বাচনে একই দলের একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকার চল রয়েছে বহুকাল ধরে। বাবা-ছেলে পরস্পরের বিরুদ্ধে ভোটে একই পদের জন্য লড়াই করার কারণে বিষয়টি সবার মুখে মুখে।

জানা গেছে, হেলাতলা ইউপি নির্বাচনে এবার চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয়জন প্রার্থী। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পাশাপাশি রয়েছেন চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও। ভোটে চেয়ারম্যান পদে অংশগ্রহণ করা স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে দুইজন হলেন সম্পর্কে বাবা ও ছেলে। বাবা আবু তালেব সরদার লড়ছেন চশমা প্রতীক নিয়ে। তিনি একাধিকবার ওই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিতও হয়েছেন। আর ছেলে ইকবাল হোসেন প্রথমবারের মতো লড়াই করছেন টেলিফোন প্রতীক নিয়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাবা আবু তালেব সরদার ও ব্যবসায়ী ছেলে  ইকবাল হোসেন একান্নবর্তী পরিবারে থাকেন। তাঁদের মধ্যে কোনো বিভেদ বা মতপার্থক্য রয়েছে-এমনটি জানা নেই কারো। একই পরিবারে বসবাস তাঁদের। তারপরও একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় ভোটারদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে নানামুখী কৌতুহল। বাপ-বেটার কর্মী সমর্থক ও ভোটাররা জানান, সাবেক চেয়ারম্যান আবু তালেব রাজনীতিতে জামায়াত ঘরানার। তাঁর ছেলে ইকবাল হোসেনও সম রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী। তারপরও এদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা কোনো বিশেষ লক্ষ্য অর্জনের জন্য, না অন্য কোনো কৌশল-এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজে দেখছেন কেউ কেউ।

পজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মসুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ৩ মার্চ প্রতীক বরাদ্দের দিনও বাবা-ছেলে নিজ নিজ প্রতীক গ্রহণ  করার সময় মানুষের মধ্যে এক ধরনের কৌতুহল সৃষ্টি হয়। সময়ের ব্যবধানে নির্বাচনী মাঠে বাবা-ছেলের পরস্পর বিরোধী অবস্থানে সে কৌতুহল ছড়িয়ে পড়ছে উপজেলাব্যাপী। ভেতরে ভিন্ন কোনো কৌশল আছে কিনা- তা না খুঁজে উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে, উপজেলার ১১ নম্বর দেয়াড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়াই করছেন নানা-নাতি। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহাবুবুর রহমান মফে দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। অপরদিকে,  নাতি সাংবাদিক মেহেদী মাসুদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন আনারস প্রতীক নিয়ে। পারিবারিকভাবে দুইজনের সম্পর্ক স্বাভাবিক হলেও রয়েছে নেতৃত্বের বিরোধ।

সাংবাদিক মেহেদী মাসুদ ও তাঁর সমর্থকরা জানান, মাহাবুবুর রহমান মফে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশকারী। উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা আনোয়ার ময়নার আর্শিবাদে দলে ভিড়ে তিনি বড় পদ (সভাপতি) বাগিয়ে নিয়ে এখন চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন। আর অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ত্যাগীরা বঞ্চিত হোক তা হতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, মাহবুবর রহমান মফে বলেন, "ওতো ছোট মানুষ। রাজনীতি বোঝে না তাই আবোল তাবোল বলে বেড়াচ্ছে। নির্বাচনে নৌকা প্রতীক দেখেই ভোটাররা ভোট দেবে। নাতি এবার ভোটারদের কাছে পরিচিত হোক। পরেরবার তাকে চান্স দেব।"

এদিকে একই ইউনিয়নে বিএনপি নেতা ইব্রাহীম হোসেন চেয়ারম্যান পদে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলেও তাঁর স্ত্রী নাজমা পারভীন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। জয়ের জন্য মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তিনিও।   

 

মন্তব্য