kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিধ্বস্ত বিমানটির ধ্বংসাবশেষ জোয়ারে ডুবছে আর ভাটায় ভাসছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার    

১১ মার্চ, ২০১৬ ২০:২২



বিধ্বস্ত বিমানটির ধ্বংসাবশেষ জোয়ারে ডুবছে আর ভাটায় ভাসছে

কক্সবাজারে বঙ্গোপসাগরের নাজিরারটেক পয়েন্টে গত বুধবার দুর্ঘটনাকবলিত কার্গো বিমানটির ধ্বংসাবশেষ এখনো পড়ে আছে সাগর বুকের ডুবোচরে। কক্সবাজার বিমান বন্দর থেকে আনুমানিক ৭-৮ কিলোমিটার দূরে সাগরে বিধ্বস্ত হওয়া বিমানের ভগ্নাংশ ডুবোচরে আটকে জোয়ারের পানিতে ডুবছে আর ভাটায় ভাসছে।

তবে ইতিমধ্যে বিমানের ব্ল্যাক বক্স দুটি উদ্ধার হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

ইউক্রেনের বিমানটির এদেশীয় এজেন্ট মেসার্স ট্রু এভিয়েশন লিমিটেডের কক্সবাজারে অবস্থিত কমিশন এজেন্সির কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন আজ  কালের কণ্ঠকে বলেন, "বুধবার সকালে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় সাগরে জোয়ার ছিল। এ কারণে সেখানে তখন ডুবোচর দেখা যায়নি। পরে সাগরে ভাটা হওয়ার পরই বিমানের ধ্বংসাবশেষগুলো দেখা যায়। "  তিনি বলেন, "এসব উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসা হবে।

এদিকে, কক্সবাজার জেলা সদর হসাপাতালের হিমঘরে দুর্ঘটনায় নিহত ইউক্রেনের তিন নাগরিকের লাশ দেশে নেওয়ার ব্যাপারে প্রাথমিক কাজ শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিমানের স্থানীয় এজেন্ট কর্তৃপক্ষ। তবে এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন আজ  সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, "নিহত তিনজনের পাসপোর্টও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এসব বিষয়গুলো নিয়ে ইতিমধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। " তিনি বলেন, "এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে যোগাযোগের পর মৃতদেহগুলো নিয়ে যা করণীয় তাই করা হবে। "

প্রসঙ্গত, গত বুধবার সকালে কক্সবাজার বিমান বন্দর থেকে উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পরই কার্গো বিমানটি বিমান বন্দরের পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের নাজিরারটেক সমুদ্র পয়েন্টে বিধ্বস্ত হয়। এতে পাইলটসহ তিন বিদেশি নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরো একজন বিদেশি।

ইউক্রেন থেকে বেসরকারি বিমান সংস্থা ট্রু এভিয়েশনের আনা কার্গো  বিমানটি চিংড়ি পোনা নিয়ে কক্সবাজার থেকে যশোর যাচ্ছিল। দুর্ঘটনায় ইউক্রেন নাগরিক যথাক্রমে পাইলট ক্যাপ্টেন মুরাদ গাফারভ, কো পাইলট ইভান পেট্র এবং ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার কুলিশ আন্দ্রে নিহত হন। তাঁদের লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হিমঘরে রয়েছে। অপরদিকে, দুর্ঘটনায় আহত নেভিগেটর ভ্লাদিমার কুলতুনভ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

 


মন্তব্য