মোল্লাহাটে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে-334747 | সারাবাংলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০১৬। ১৬ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৮ জিলহজ ১৪৩৭


মোল্লাহাটে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৮

বাগেরহাট প্রতিনিধি   

১১ মার্চ, ২০১৬ ১৪:৫৬



মোল্লাহাটে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৮

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে নারীসহ উভয় পক্ষের অর্ধশত আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আটজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এসময় ১৫টি ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়। শুক্রবার সকালে বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেরার উদয়পুর ইউনিয়নের সদস্য পদপ্রার্থী আজিজুর রহমান মুকু এবং কামরুল ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে উত্তরকান্দি গ্রামে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে ৩৩ জনকে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা। এদের মধ্যে ১৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। এলাকায় উত্তেজন বিরাজ করছে। পরিস্থিসামাল দিতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, মোল্লাহাট উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদপ্রার্থী আজিজুর রহমান মুকু এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদপ্রার্থী কামরুল ইসলাম মোল্যার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতে কামরুল ইসলামের ছোটভাই রইস মোল্যা খুলনা থেকে একটি মেয়েকে উদয়পুর গ্রামে নিয়ে আসে। আজিজুর রহমান মুকুর লোকন জানতে পেয়ে ওই রাতেই উত্তরকান্দি গ্রামের একটি ঘেরের পাশ থেকে মেয়েটিকে হাতে নাতে ধরে ফেলে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কামরুল ইসলাম এবং আজিজুর রহমানের সমর্থকরা ইটপাটকেল নিয়ে সংষর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনার জের ধরে শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে আজিজুর রহমান এবং কামরুল ইসলামের সহশ্রাধীক সমর্থক উত্তরকান্দি গ্রামে লঠিসোটা, ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘন্টা ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলাকালে গুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের ১৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে এবং লাঠিসোটার আঘাতে উভয় পক্ষের অর্ধশত নারী-পুরুষ আহত হয়। দুই ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বি আজিজুর রহমান মুকু এবং কামরুল ইসলাম বর্তমান ইউপি সদস্য।

আজিজুর রহমান মুকু অভিযোগ করে বলেন, কামরুল ইসলামের ভাই রইস মোল্যা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে নারীদের এলাকায় এনে দেহব্যবসা করে আসছে। তাঁর লোকজন বৃহস্পতিবার রাতে ওই নারীকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। ওই ঘটনা নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে এবং শুক্রবার সকালে তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষ চলাকালে তার পক্ষের ৩০ জন কমবেশি আহত হয়েছে এবং ১৫টি ঘরবাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে।

কামরুল ইসলাম মোল্যার দাবি, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে তাকে হেয় করতে পরিকল্পিত ভাবে তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। শুক্রবার সকালে আজিজুর রমহান মুকু লোকজন নিয়ে তার বাড়ির সামনে এসে হুংকার দিতে থাকে। এক পর্যায়ে তার লোকজনের সঙ্গে মুকুর লোকজন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে তার ২৫ জন আহত হয়েছে এবং কয়েকটি ঘরবাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে বলে কামরুল জানান।

মোল্লাহাট থানার ওসি আনম খায়রুল আনাম জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ওই গ্রামে গিয়ে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। এসময় কয়েকটি ঘরবাড়ি ভাংচুর করা হয় বলে ওসি জানান।

ওসি আনম খায়রুল আনাম আরো জানান, উদয়পুর ইউনিয়নের আস্তাইল এবং উত্তরকান্দি গ্রাম পাশাপাশি। দীর্ঘদিন ধরে আস্তাইল গ্রামের আজিজুর রহমান মুকুর সঙ্গে পাশ্ববর্তী উত্তরকান্দি গ্রামের কামরুল ইসলামের মধ্যে সামাজিক বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার রাতে এক নারীকে নিয়ে সংঘর্ষের সুত্রপাত হয়। শুক্রবার সকালে ওই দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ খুলনা থেকে নিয়ে আসা ওই নারীকে উদ্ধার করে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে ওসি জানান।

তবে পুলিশ ওই সংঘর্ষের ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি। এ ব্যাপারে কোনো পক্ষই এখনো পর্যন্ত থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি বলে ওসি জানান।

মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, সংঘর্ষে আহত অবস্থায় ৩৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে আটজন শটগানের ছররাগুলিতে আহত। তাদের বুকে, মাথায় এবং পিঠে ছররা গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে বলে ওই চিকিৎসক জানান।

আহতরা হলেন : সফিকুল ইসলাম (২৫), ফারুক মোল্যা (৫০), মরিয়ম বেগম (৪০), রবিউল মোল্যা (৪০), সফিক মোল্যা (২৬), আরমান শরীফ (৩২), সাহেদ শরীফ (৬৫), মাহাবুব (৩২), সাদ্দাম (২৮), মিরাজ (৩২), আকবর হোসেন (৩০), এমদাদ মোল্যা (৪০), মিরাজ মোল্যা (৪৫), হাফসি বেগম (৩০), আকরাম শেখ (২০), আজাদ মোল্যা (৩২), ইলাহি বিশ্বাস (৩৮), আবুল কালাম আজাদ (৫২), বাবর মোল্লা (২৮), নান্নু মোল্যা (২৮), জালাল মোল্যা (২০), সুখ মিয়া (২৭), নাদের মোল্যা (৩০), মিরাজ শেখ (৩৬), আবু সিদ্দিক (২৫), জামাল শরীফ (৩৫), মিন্টু মুন্সি (৩৫), আব্দুল গাজী (১৬), জাকারিয়া (২৮), টুকু শরীফ (৪৬), লিয়াকত শরীফ (৩৮), সুরমান খান (৫৮) ও আবজাল মোল্যা (৪৭)।

মন্তব্য