ইসলামপুরে ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী-334429 | সারাবাংলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০১৬। ১৬ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৮ জিলহজ ১৪৩৭


ইসলামপুরে ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে অসন্তোষ

জামালপুর প্রতিনিধি   

১০ মার্চ, ২০১৬ ১৯:০০



ইসলামপুরে ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে অসন্তোষ

আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের বঞ্চিত করে রাজাকার পরিবারের সদস্য এবং বিএনপি-জামায়াত থেকে আসা কতিপয় বিতর্কিত নেতাকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেওয়ায় ইসলামপুরের ৪টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। এতে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের পরাজয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, আসন্ন ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপে ইসলামপুর উপজেলার ইসলামপুর সদর ইউপি নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিল, বাছাই ও প্রতীক বরাদ্ধ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত হবে এ ইউনিয়নের নির্বাচন। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীনকে বাদ দিয়ে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে ইসলামপুরের চিহ্নিত রাজাকার পরিবারের সদস্য সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান শাহীনকে। আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য কয়েক দফা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করলেও স্থানীয় এমপি তাদের দাবি উপেক্ষা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইসলামপুর সদর ইউনিয়নের অধিকাংশ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থী করেছেন আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতা সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন সরকারকে। আর নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ ততই বেড়ে যাচ্ছে। এতে আসন্ন নির্বাচনে ইসলামপুর সদর ইউনিয়নে বিএনপির একক প্রার্থী রফিকুল ইসলাম অথবা বিদ্রোহী প্রার্থী জয়নাল আবেদীনের জয়লাভের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রাজাকার পরিবারের সদস্য হাবিবুর রহমান শাহীন এর পরাজয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইসলামপুরের গাইবান্ধা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকছুদুর রহমান আনছারীকে। তিনি সম্প্রতি বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন। অপরদিকে এখানে দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও জনপ্রিয় প্রার্থী গাইবান্ধা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক সরদার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস ও সাবেক সভাপতি মুসলিম উদ্দিনকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

গাইবান্ধা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক সরদার জানান, ছাত্র জীবন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে প্রবেশ করে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেও নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছি। বিএনপি থেকে দলছুট নেতা মাকছুদুর রহমান আনছারীর কালো টাকার প্রভাবে স্থানীয় এমপি ফরিদুল হক খান দুলাল গাইবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রদানে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই আসন্ন নির্বাচনে এখানে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পরাজয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইসলামপুরের গোয়ালের চর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশা ও বর্তমান চেয়ারম্যান হাজি এনামুল করিমসহ ৯ জন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন চেয়ে আবেদন করেছিলেন। এখানে আওয়ামী লীগের সব ক’টি জনপ্রিয় নেতাকে বঞ্চিত করে স্থানীয় এমপির আশির্বাদপুষ্ট তরুণ যুবলীগ নেতা হারুনুর রশীদকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দিয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

গোয়ালেরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশা জানান, ইসলামপুরের পার্শবর্তী উপজেলা মেলান্দহ থানার দুরমুঠ ইউনিয়নের আমবাড়িয়া গ্রামে যুবলীগ নেতা হারুনুর রশীদ এর জন্মস্থান। তার বংশের সকল মানুষ দুরমুঠ ইউনিয়নের ভোটার। সে গোয়ালেরচর ইউনিয়নের দক্ষিণপ্রান্তে সভারচর গ্রামে তার নানা বাড়িতে অস্থায়ীভাবে বসবাস করে সম্প্রতি গোয়ালেরচর ইউনিয়নের ভোটার হয়েছেন। তাই চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে হারুনুর রশীদকে গোয়ালেরচর ইউনিয়নবাসী মেনে নিতে পারছেন না। এতে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। এ কারণে এখানে বিএনপির একক প্রার্থী অথবা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের জয়লাভের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

ইসলামপুরের চরগোয়ালিনী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলিনুর ইসলাম জানান, চরগোয়ালিনী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী নির্বাচনের সময় ইউনিয়নের ৪০ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ২৫ জন কাউন্সিলর বর্তমান চেয়ারম্যান ছাইফুল ইসলাম তোতাকে সমর্থন দিয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের চাওয়া-পাওয়াকে উপেক্ষা করে উপজেলা আওয়ামী লীগের কতিপয় প্রভাবশালী নেতারা স্থানীয় এমপির সহযোগিতায় অন্যায়ভাবে সহিদুল্লাহকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন।

ইসলামপুরের পলবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান মজিবর রহমান জোতদার জানান, পলবান্ধা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী নির্বাচনের সময় ইউনিয়নের ৪১ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৩০ জন কাউন্সিলর তার পক্ষে সমর্থন দিলেও স্থানীয় এমপি এবং তার সহযোগী উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একতরফাভাবে সাবেক চেয়ারম্যান সাহাদাত হোসেন স্বাধীনকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন। এতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নিংহভাগ নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে নিস্কৃয় হয়ে পড়ায় বিএনপির একক প্রার্থী মোহাম্মদ রেহান আলীর জয়ের সম্ভানা দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে ইসলামপুরের কৃতি সন্তান জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের এমপি মাহজাবিন খালেদ মোশারফ বেবী জানান, ইসলামপুরে আওয়ামী লীগের অধিকতর ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের বঞ্চিত করে কেবলমাত্র স্থানীয় এমপির আশির্বাদপুষ্ট প্রার্থী এবং রাজাকার পরিবারের সদস্য ও বিএনপি থেকে আসা দলছুট নেতাকে চেয়ারম্যান প্রার্থী করা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের পরাজয় ঠেকাতে রাজাকার পরিবারের সদস্য ও বিএনপি-জামায়াত থেকে আসা দলছুট নেতাদের আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি আওয়ামী লীগের জেলা ও কেন্দ্রিয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দরা খতিয়ে দেখবেন বলেও তিনি দাবি করেন।

এ ব্যাপারে স্থানীয় এমপি ফরিদুল হক খান দুলাল জানান, ইসলামপুরের ৬টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এবং অধিকতর গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় চেয়ারম্যান প্রার্থীদেরই আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে ইসলামপুর পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক ২২ জন নেতাকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কার করায় তারা   আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী নিয়ে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

 

মন্তব্য