kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরে মানবপাচার ও অপহরণের সাজানো মামলায় হয়রানি

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি    

১০ মার্চ, ২০১৬ ১৪:৫২



লক্ষ্মীপুরে মানবপাচার ও অপহরণের সাজানো মামলায় হয়রানি

লক্ষ্মীপুরে মানবপাচার ও অপহরণের মামলা দিয়ে নিরীহ দুই পরিবারকে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে শাহিনুর বেগম নামের এক নারীর বিরুদ্ধে। পৈত্রিক জমি দখল করতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ষড়যন্ত্র থেকে রেহাই পেতে এবং পুলিশি হয়রানি ও মামলা থেকে মুক্তি পেতে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা শহরের একটি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

সেখানে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে মামলার আসামি কাজল বেগম জানান, গত ২৯ ফেব্রুয়ারি রাতে শাহিনুর বেগম তাঁর দুই শিশু কন্যা সুবর্ণা আক্তার ও স্বর্ণা আক্তারকে দুষ্টামি করার কারণে নিজের বাসায় মারধর করেন। এতে অভিমান করে তারা বাসা থেকে বের হয়ে শহরের মোল্লা বাড়িতে যায়। পরে সেখান থেকে দুই শিশু মজুপুর এলাকায় নানার বাড়িতে আসে। এরপর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাহিনুর দুই সন্তানকে থানায় নিয়ে ৩ মার্চ অপহরণ ও মানবপাচারের অভিযোগে থানায় একটি মামলা করেন। এতে স্থানীয় ছালেহা বেগম, রাজন মোল্লা, কাজল বেগম, মরিয়ম বেগম ও মোহাম্মদ আলীকে আসামি করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বৃদ্ধা মরিয়ম বেগম ও তাঁর ছেলে মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়। এদিকে, পুলিশ দুই শিশু কন্যাকে উদ্ধার না করেও পরবর্তীতে উদ্ধার দেখায়। মামলায় পুলিশি হয়রানি এড়াতে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, ওই এলাকার জামাল ও মরিয়ম ভুক্তভোগীর চার শতাংশ পৈত্রিক জমি থেকে উচ্ছেদ করে দখলে নিতে শাহিনুরকে দিয়ে মামলাটি দায়ের করিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৯ মার্চ মামলার বাদী শাহিনুর বেগম লক্ষ্মীপুরে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ওই মামলার ৪ নম্বর আসামি মরিয়ম বেগম ও তাঁর ছেলে ৫ নম্বর আসামি মোহাম্মদ আলী ঘটনায় জড়িত নন বলে আদালতে অ্যাফিডেভিট প্রদান করেন। এতে  উল্লেখ করা হয়, বাদী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রক অফিসে রান্না-বান্নার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এ ছাড়া মোল্লা বাড়ির মরিয়মের বাসায় দুই বছর ধরে ভাড়া থাকতেন। সম্প্রতি ওই বাসা ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র চলে যান শাহিনুর। এ সুযোগে মরিয়মের বাসায় আসা-যাওয়া করতো  তার দুই শিশু সন্তান। এ ঘটনায় তারা জড়িত নন বলে দাবি করেন তিনি।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সদর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন ভূঁইয়া বলেন, "মামলাটি তদন্ত চলছে। কাউকে উদ্দেশ্যমূলক হয়রানি করা হবে না। "

 


মন্তব্য