kalerkantho


অনিশ্চয়তার মুখে ৫০ হাজার একর জমির চাষাবাদ

মাতামুহুরী নদীর রাবার বাঁধ ছিড়ে ঢুকছে লবণ পানি

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া (কক্সবাজার)    

৯ মার্চ, ২০১৬ ১৬:২৪



মাতামুহুরী নদীর রাবার বাঁধ ছিড়ে ঢুকছে লবণ পানি

কক্সবাজারের চকরিয়ার মাতামুহুরী নদীর বাঘগুজারা পয়েন্টে নির্মিত দেশের বৃহত্তম বারার বাঁধটির রাবারের জোড়া ছিড়ে গিয়ে নদীতে ব্যাপকভাবে ঢুকে পড়ছে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি। এতে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার অন্তত ১৫টি ইউনিয়নের ৫০ হাজার একর জমির চাষাবাদ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বাঁধের রাবার ছিড়ে যাওয়ার খবরে অর্ধ লক্ষাধিক কৃষকের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বাঘগুজারা রাবার বাঁধের তদারক আবদুর রহিম জানান, বাঁধটি উদ্বোধনের পর এ পর্যন্ত চারবার রাবারের জোড়া ছিড়ে গেছে। আজ  বুধবার দুপুর ১২টার দিকে সমুদ্রের অস্বাভাবিক জোয়ারের পানির চাপে বাঁধটির চার স্প্যানের এক স্প্যানের রাবারের জোড়া ছিড়ে গেলে ব্যাপকভাবে নদীতে ঢুকে পড়ছে লবণাক্ত পানি। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাসহ জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।

বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন চৌধুরী জিয়া বলেন, "মাতামুহুরী নদীতে দেশের বৃহত্তম বাঁধটি নির্মাণ করা হয়েছিল চকরিয়া ও পেকুয়ার ১৫টি ইউনিয়নের ৫০ হাজার একর জমির চাষাবাদ নির্বিঘ্নে করতে। কিন্তু নানা অনিয়মের মধ্য নিয়ে বাঁধটি নির্মিত হওয়ায় এবং বাঁধটির অদূরে গত দুই মাস ধরে শ্যালোমেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে পড়ে বাঁধটি। যার খেসারত কৃষকদের দিতে হচ্ছে চতুর্থবারের মতো ড্রামটি রাবারের জোড়া ছিড়ে অকার্যকর হওয়ায়। "

চেয়ারম্যান বলেন, "জরুরি ভিত্তিতে ড্যামটির ছিড়ে যাওয়া রাবার জোড়া না লাগালে চলতি আমন মৌসুমে জমিতে রোপিত ফসল মিঠা পানির অভাবে নষ্ট হয়ে যাবে। এতে আর্থিকভাবে মার খাবে কৃষক। তাই এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। "

চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম বলেন, "বাঁধটির ছিড়ে যাওয়া রাবার জোড়া লাগাতে ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি। " পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, "বাঘগুজারা বাঁধের রাবার ছিড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে সেখানে এক কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। তিনি ফিরলেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বাঁধটির ছিড়ে যাওয়া রাবার জোড়া লাগাতে। "
 

 


মন্তব্য