অপহরণের পর সম্পত্তি লিখে নেওয়ার-333963 | সারাবাংলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


অপহরণের পর সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ মার্চ, ২০১৬ ১৩:৪৬



অপহরণের পর সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

অপহরণের পর দুই মাস আটকে রেখে প্রাণনাশের হুমকির মুখে ভারতে বসবাসরত এক সংখ্যালঘুর প্রাপ্ত প্রায় কোটি টাকার পৈত্রিক সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক প্রভাবশালী এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় ভাই স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে বিচার দাবি করেন। তবে ওই সংসদ সদস্য ইউপি চেয়ারম্যানকে পুরো সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও গত নয় মাসেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের কোদালধোয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয়রা জানান, এখন উল্টো অভিযোগকারীর সম্পত্তিও দখল করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফলে ওই গ্রামের মৃত অন্নদা চরণ মল্লিকের ছেলে নারায়ণ মল্লিক (৫২) তার ভাইয়ের ন্যায় চেয়ারম্যান কর্তৃক বাকি পৈত্রিক সম্পত্তি দখল করার ভয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। নারায়ণের ভাই গৌরাঙ্গ লাল মল্লিক (৪৮) আজ বুধবার সকালে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, তিনি বিগত ১৫ বছর ধরে ভারতে বসবাস করে আসছেন। গত বছরের ২৬ এপ্রিল তিনি তাঁর ভাইয়ের কাছে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন।

ওই বছরের ২৮ এপ্রিল সকালে বাকাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিপুল দাস তার সহযোগীদের নিয়ে নাটকীয়ভাবে তাকে অপহরণ করে বাকেরগঞ্জে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে আটকে রাখেন। টানা দুই মাস সেখানে তাকে আটকে রাখা হয়। এ সময় তার পৈত্রিক সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য চেয়ারম্যান বিপুল তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতিসহ প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে তাকে জিম্মি করে বরিশাল নগরীর একটি বাসায় এনে একজন সাবরেজিস্ট্রারের উপস্থিতিতে তার কাছ থেকে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া বিভিন্ন দাগ ও খতিয়ানের তিন একর ৬২ শতক সম্পত্তি লিখে নেওয়া হয়।

ওই সম্পত্তি চেয়ারম্যান বিপুল দাস, তার স্ত্রী ঝুমা দাস ও আত্মীয় ঝালকাঠীর নলছিটির বিরাঠ গ্রামের সত্যজিৎ খাসকেল, বাকেরগঞ্জের মাকিন হেলেঞ্চা গ্রামের নিত্যরঞ্জন শীলের নামে দলিল করে নেওয়া হয়। পরে তাকে কোনো টাকাপয়সা না দিয়েই প্রাণনাশের হুমকির মুখে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

নারায়ণ মল্লিক অভিযোগ করেন, ভারত থেকে তার কাছে গ্রামে বেড়াতে আসা ছোট ভাই গৌরাঙ্গকে না পেয়ে তিনি সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ভাইকে (গৌরাঙ্গ) অপহরণের অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে দীর্ঘ দুই মাস পর ভারতে পৌঁছে তার ভাই গৌরাঙ্গ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি তাকে জানায়। উপায়ান্তুর না পেয়ে তিনি বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে অবহিত করেন। সংসদ সদস্য পুরো ঘটনা শুনে চেয়ারম্যান বিপুলকে পুরো সম্পত্তি নারায়ণের কাছে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। অভিযোগে আরো জানা গেছে, সংসদ সদস্যের কাছে বিচার দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যান বিপুল তাকে (নারায়ণ) বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতিসহ গৌরাঙ্গর ন্যায় তার সম্পত্তিও দখল করার হুমকি প্রদর্শন করেন।

এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নারায়ণ। গৌরাঙ্গকে অপহরণের পর তার সম্পত্তি লিখে নেওয়া ও নারায়ণকে হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান বিপুল দাস বলেন, "গৌরাঙ্গ স্বেচ্ছায় আমার কাছে তার প্রাপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করেছেন। বর্তমানে তারা মনগড়া অভিযোগ দায়ের করছেন।"

মন্তব্য