kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বরেন্দ্র এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানি সংরক্ষণের প্রতি গুরুত্বারোপ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ মার্চ, ২০১৬ ২২:০৬



বরেন্দ্র এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানি সংরক্ষণের প্রতি গুরুত্বারোপ

খরাপ্রবণ বরেন্দ্র এলাকায় অতিমাত্রায় ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহারে কৃষির উপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে উল্লেখ করে গবেষক ও সেচ বিশেষজ্ঞরা ভূমির উপরিভাগের পানির উৎসভিত্তিক আরো সেচ প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
তারা বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে বরেন্দ্র এলাকার কৃষি ব্যবস্থার টেকসই সুরক্ষা প্রদানে এ অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানিসম্পদ সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।


জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় খাদ্যে স্বনির্ভরতা বজায় রাখতে কৃষিখাতে ভূগর্ভস্থ ও ভূমি উপরিস্থিত পানির ব্যবহারে সজাগ থাকা প্রয়োজন।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) এবং ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট যৌথ উদ্যোগে বিএমডিএ সম্মেলন কক্ষে গতকাল ‘আন্ডারগ্রাউন্ড টেমিং অব ফ্লাডস ফর ইরিগেশন কেস স্টাডি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
বিএমডিএ, আইডব্লিউএমআই, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (আরইউ), রাজশাহী ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি (রুয়েট) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ৬৫ জনের বেশি কর্মকর্তা ও গবেষক কর্মশালায় অংশ নেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমডিএ চেয়ারম্যান ড. আকরাম হোসেন চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএমডিএ নির্বাহী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রশিদ।
মূল প্রবন্ধে প্রফেসর সারওয়ার জাহান বলেন, অতিমাত্রায় ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনে ইতোমধ্যেই রাজশাহী অঞ্চলে এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় ভূগর্ভস্থ প্রাকৃতিক জলাধার পুনরায় পানিতে পূর্ণ হচ্ছে না।
প্রফেসর জাহান বলেন, পদ্মা নদীর ব্যাপক খনন প্রয়োজন। যদি নদীর প্রস্থ কমে আসে এবং গভীরতা বৃদ্ধি পায় তাহলে ভূ-উপরিস্থ পানির সেচের জন্য নদীর কার্যকারিতা বাড়বে পাশাপাশি এ অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি রোধ করবে।
সেচের চাহিদা কমিয়ে আনতে তিনি ‘ভেজা ও শুষ্ক’ পদ্ধতির মতো বিকল্প পদ্ধতির উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রধান অতিথি ড. আকরাম চৌধুরী বলেন, খাল ও পুকুর পুনঃখনন থেকে পানি সরবরাহের পাশাপাশি সেচ সুবিধা সম্প্রসারণে এ অঞ্চলে শস্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
যদি ২০ বছর পেছনের দিকে কাতাই তাহলে দেখতে পাই বছরে বৃষ্টিপাত নির্ভর একটিমাত্র ফসল পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে সেচ সুবিধা বৃদ্ধির কারণে বছরে অন্তত তিনবার ফসল তোলা সম্ভব হচ্ছে।


মন্তব্য