kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ইউপি নির্বাচন

ভোলায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ২৫

ভোলা প্রতিনিধি   

৮ মার্চ, ২০১৬ ১৯:৪২



ভোলায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ২৫

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী নাগর হাওলাদার ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী যুবলীগ নেতা আলাউদ্দিনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দফায় দফায় ওই সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।

এর মধ্যে গুরুতর ৬ জনকে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার সকালে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে ভোলার আদালতে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার দুপুরে প্রায় ৩টার দিকে পক্ষিয়া ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী বোরহানউদ্দিন উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি মোঃ আলাউদ্দিন (আনারস প্রতীক) ও তার কর্মী-সমর্থকরা। এ সময় আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী নাগর হাওলাদারের (নৌকা প্রতীক) কর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারে বাধা দেয়। এ সময় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী যুবলীগ নেতা আলাউদ্দিনের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে লাঞ্ছিত করে আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর লোকজন। এ খবর পেয়ে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকসহ শত শত নারী-পুরুষ ওই প্রার্থীর কর্মীদের ধাওয়া করে। ওই দিন বিকেলে আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর বাড়ির সামনে দিয়ে প্রচারণা চালালে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলাউদ্দিনের কর্মী-সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে শুরু হয় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী নাগর হাওলাদারের কর্মী মনির হোসেন ফরাজী, মনির মাতাব্বর, কালাম মাতাব্বর, বাচ্চু, রায়হান ও নুরুজ্জামানকে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় চেয়ারম্যান প্রার্থী নাগর হাওলাদারের প্রচারের মাইক, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, চাউন্ডবক্স ও জেনারেটর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় নাগর হাওলাদার বাদী হয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ স্বতন্ত্র প্রার্থীর দুই কর্মী জাফর (২১) ও নুরুদ্দিন (২৮) কে গ্রেপ্তার করেছে।

স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আলাউদ্দিন জানান, তিনি নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী নাগর হাওলাদারের কর্মীরা তার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে আহত করে। এ সময় তার মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যান প্রার্থী নাগর হাওলাদার উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আর পুলিশ আমার দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ আমাকেও হয়রানি করছে। পুলিশ কয়েক ঘন্টা পর পর পক্ষিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে নিরিহ মানুষদের হয়রানি করছে বলেও অভিযোগ করেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আলাউদ্দিন।

অপরদিকে আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী নাগর হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, তিনি নির্বাচনী প্রচারণাকালে তার কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়ে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলাউদ্দিনের কর্মী-সমর্থকরা। এ ঘটনায় তিনি নিজে বাদী হয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় একটি মারামারি ও অগ্নিসংযোগ মামলা দায়ের করেছেন।    

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই আজিজুল ইসলাম জানান, পুলিশ সোমবার রাতে পক্ষিয়া ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রাম থেকে জাফর (২১) ও নুরুদ্দিন (২৮) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মঙ্গলবার সকালে ভোলার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ঘটনায় ওই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


মন্তব্য