সোনামসজিদ স্থলবন্দরে দ্বিতীয় দিনের-333325 | সারাবাংলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৫ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৭ জিলহজ ১৪৩৭


সোনামসজিদ স্থলবন্দরে দ্বিতীয় দিনের মতো পণ্য রপ্তানি বন্ধ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ   

৭ মার্চ, ২০১৬ ২২:০৭



সোনামসজিদ স্থলবন্দরে দ্বিতীয় দিনের মতো পণ্য রপ্তানি বন্ধ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানিকারকরা পাথর না নেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে গতকাল রবিবার সকাল থেকে আজ সোমবার পর্যন্ত ২য় দিনের মতো সব পণ্যরপ্তানি বন্ধ রাখে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর  দিয়ে ভারত থেকে আসা পাথরের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি, ভারতীয় ট্রাক পাকুড় থেকে সরাসরি বাংলাদেশে ঢুকতে না দিয়ে মহদীপুরে ডাম্পিং করা, নিম্নমানের পাথর ও মাটি মেশানো, ইচ্ছাকৃত যানজট ও কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টিসহ দেশীয় আমদানিকারকদের বিপাকে ফেলে ফায়দা নেওয়ায় আমদানিকারকরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। পদ্মা সেতু ও রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে পাথরের ব্যাপক চাহিদার কারণে ভারতীয় পাথর রপ্তানিকারকরা এটিকে পুঁজি করে ফায়দা লুটছে বলে অভিযোগ আমদানিকারকদের। রপ্তানিকারকরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও জিম্মি করে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের কাছ থেকে অধিক মুনাফা আদায় শুরু করে।

গত ২১ ফেব্রুয়ারী সোনামসজিদে  দু'দেশের রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জটিলতা নিরসনের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে কয়েকটি সমস্যার সমাধানের জন্য সিদ্ধান্ত গৃহিত হলেও এর ৩ দিন পর গৃহিত সিদ্ধান্ত না মানতে পারার অপারগতার কথা জানিয়ে চিঠি দেয় রপ্তানিকারকরা।

এ ছাড়াও সভায় ২৬ ফেব্রুয়ারী থেকে রপ্তানিকারকরা পাথর ওজন হিসাবে মেট্রিক টন হিসাবে রপ্তানি না করে সিএফটি ওজন হিসাবে এবং তা ২ টাকা করে কম করারও সিদ্ধান্ত নেন। তা ছাড়াও ২ মার্চ থেকে বোল্ডারের এলসি ভ্যালু টন প্রতি ১৪ ডলার হিসাবে নেওয়া এবং মান নিয়ন্ত্রনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে আগের করা এলসির পাথর আসার এক পর্যায়ে শনিবার গৃহিত সিদ্ধান্ত না মানা হলে পাথর আনা রবিবার থেকে বন্ধ থাকবে বলে রপ্তানিকারকদের জানিয়ে দেয় আমদানিকারকরা।

পাথর না নেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে গতকাল রবিবার সকাল থেকে সব পণ্যরপ্তানি বন্ধ রাখে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা। সোনামসজিদ স্থলবন্দরের বিপরীতে ভারতে মোহদিপুর স্থলবন্দরে আটকা পড়েছে পন্যভর্তি কয়েক শ ট্রাক। আগের নিয়মেই পাথর না নিলে সব পণ্যরপ্তানি অনির্ধারিত সময় পর্যন্ত বন্ধ রাখা হবে বলে জানায় ভারতের রপ্তানিকারকরা। সোনামসজি স্থলবন্দর আমদানিকারক গ্রুপ অফিসের সচিব এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে ভারতের মোহদিপুর রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার সাহার সাথে যোগাযোগের চেস্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমস এর সহকারী কমিশনার সাইদ আহম্মেদ রুবেল জানান, প্রতিদিন ভারত থেকে প্রায় আড়াইশ ট্রাক বা ১০ হাজার মেট্রিক টন পাথর আমদানি হয় ভারত থেকে। সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে জানুয়ারী মাসে ৬ হাজার ৮০৪ ট্রাক ভর্তি ২ লক্ষ ৪১ হাজার মেট্রিক টন পাথর আমদানি হওয়ায় সরকার রাজস্ব আয় করে প্রায় ২২ কোটি টাক। এসব পাথর দেশের মেগা প্রকল্পে ব্যবহার হচ্ছে।

সোনামসজিদ পানামা পোর্ট রিঙ্ক অফিস ও আমদানকিারক গ্রুপ অফিস সূত্রে জানা যায়, গত নভেম্বর মাসে ৫ হাজার ৩৯৭ ট্রাক বা ১ লক্ষ ৮৯ হাজার মেট্রিক টন, ডিসেম্বর মাসে ৭ হাজার ১০২ ট্রাক বা আড়াই লক্ষ মেট্রিক টন ও ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারীতে ৫ হাজার ৭৫০ ট্রাক বা  প্রায় ২ লক্ষ মেট্রিক টন পাথর আমদানি হয়। যা গত ৪ মাসে আসে প্রায় ৯ লক্ষ মেট্রিক টন পাথর।

মন্তব্য