kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গৌরনদীতে নির্বাচনী মাঠ উত্তপ্ত হচ্ছে

গৌরনদী প্রতিনিধি   

৭ মার্চ, ২০১৬ ১৮:৫৫



গৌরনদীতে নির্বাচনী মাঠ উত্তপ্ত হচ্ছে

আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের নির্বাচনী মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্ধের পর এলাকার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থী এবং বিএনপির প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টাহামলা, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনায় বাঁধা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

আহত হয়েছে কমপক্ষে অর্ধশত লোক। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকার সাধারণ ভোটাররা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বিএনপি প্রার্থীর পোস্টার লাগানোর অভিযোগ এনে গত শনিবার রাতে উপজেলার শরিকল ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ফারুক মোল্লার সমর্থকরা ওই ইউনিয়নের মহিষা গ্রামের ঋষি পাড়ার রন দাশের বাড়ির ২টি বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে। হামলায় রনোদাশ (৫০), সুমি রানী দাশ(৪৫), পুতুল রানী (৪৭), সাগরী রানী (৪০) সহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছে। নির্বাচনী সহিংসতার শিকার সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যরা বলেন, আমরা নৌকা মার্কার সমর্থক হলেও আমাদের বাড়িতে যারা হামলা করেছে তারাই আমাদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করে আমাদের হয়রানি করছেন। ঘটনার পর হামলার ভয়ে ওই বাড়ির পুরুষ লোকজন অন্যত্রে আশ্রয় নিয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাকোকাঠি মিশুক ষ্ট্যান্ডে শরিকল ইউনিয়নের বিএনপি প্রার্থী মনজুর হোসেন মিলনের সমর্থকরা ধানের শীষ মার্কার পোস্টার লাগাতে গেলে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ফারুক মোল্লার সমর্থকরা পোস্টার ছিনিয়ে নিয়ে তাতে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় সংঘর্ষে নৌকার সমর্থক নাসির মোল্লা ও আজিজ মোল্লা রক্তাক্ত জখম হন। এ ঘটনায় নাসির মোল্লা বাদী হয়ে ২৫ জনকে আসামি করে রবিবার সকালে গৌরনদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তাৎক্ষনিক পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার আসামি আব্দুর রহমান বিশ্বাস, শদিদুল ইসলাম স্বজলকে গ্রেপ্তার করেছে।

অপরদিকে শনিবার দুপুরে নলচিড়া ইউনিয়ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী গোলাম হাফিজ মৃধা (নৌকা মার্কার) ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মীর মাসুদ উদ্দিন (আনারস মার্কার) সমর্থকদের হামলা-পাল্টাহামলা ও সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ২০ কর্মী-সমর্থক আহত হয়। এ সময় নৌকা মার্কার সমর্থকরা হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর নির্বাচনী ১টি অফিস ও ১১টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। ওই সময় পুলিশ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মীর মাসুদ উদ্দিনের সমর্থকদের ১১টি
মোটরসাইকেল জব্দ করে। গুরুতর আহত পাঁচজনকে বরিশাল শেবাচিম ও গৌরনদী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর কর্মী মোক্তার ফকির বাদী হয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মীর মাসুদ উদ্দিনসহ ৫২ কর্মীকে আসামি করে রাতেই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খাঞ্জাপুর ইউনিয়নে নৌকা মার্কার প্রার্থী নুর-আলম সেরনিয়াবাতের সমর্থকরা ইছাকুড়ি বাকাই ও মাগুরা গ্রামে ধাণের শীষ মার্কার প্রাথী আকন সিদ্দিকুর রহমানের ২ কর্মীর প্রচারণার বাঁধা দিয়ে মাইক বন্ধ করে দেয়। এ সময় তারা প্রচারককে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করে জীবননাশের হুমকি দেয় এবং এলাকা থেকে প্রচারের মাইক নিয়ে চলে যেতে বাধ্য করে।

এর আগে খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সঞ্জীব কুমার হালদার ওরফে সুধীর হালদারের নেতৃত্বে শতাধিক কর্মী-সমর্থক আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ব্যাটারিচালিত ১৫-২০টি ভ্যানযোগে ওয়ার্ডের ইছাকুড়ি বাকাই ও দোনারকান্দি গ্রামে শো-ডাউন করে।

 


মন্তব্য