এমপি বদির খালাত ভাই টেকনাফে-332878 | সারাবাংলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

রবিবার । ২ অক্টোবর ২০১৬। ১৭ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৯ জিলহজ ১৪৩৭


কালের কণ্ঠে প্রকাশিত তথ্য সঠিক

এমপি বদির খালাত ভাই টেকনাফে ‘প্রভাবশালী ব্যক্তি’

জামিন না দিতে আদালতে ওসির প্রার্থনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

৬ মার্চ, ২০১৬ ২০:৪০



এমপি বদির খালাত ভাই টেকনাফে ‘প্রভাবশালী ব্যক্তি’

টেকনাফ সীমান্তে সাড়ে ৯ কেজি স্বর্ণসহ বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতীয় মুদ্রাসহ শনিবার বিজিবি’র হাতে আটক মংমং সেন রাখাইন (৪৫) মূলত মিয়ানমার ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক। নাফ নদীর ওপারে মিয়ানমারেও তার আলীশান বাড়ি আর এপারে টেকনাফের লামার বাজার চৌধুরী পাড়ায়ও রয়েছে তার দৃষ্টিনন্দন বাড়ি। বিজিবি ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, তিনি একজন আন্তর্জাতিক সোনা চোরাকারবারি। এই সোনা চোরকারবারি টেকনাফ সীমান্তের একজন ‘প্রভাবশালী’ ব্যক্তি বলে উল্লেখ করে টেকনাফ থানার ওসি তাকে জামিন না দেয়ার জন্য আদালতের নিকট লিখিতভাবে আসামির চালানে প্রার্থনা জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত টেকনাফ সীমান্তের সোনা চোরচালান নিয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দৈনিক কালের কণ্ঠে ‘নতুন জঙ্গি জোটের ভয়ংকর পরিকল্পনা’ শীর্ষক প্রধান শিরোনামের ‘টেকনাফে রহস্যঘেরা সোনার দোকান’ শীর্ষক উপ শিরোনামে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সরকারের বিশেষ সংস্থা কালের কণ্ঠে প্রকাশিত ওই সংবাদ নিয়ে ইতিমধ্যে সীমান্তবর্তী এলাকায় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ওদিকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো: আলী হোসেন এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন-‘কালের কন্ঠে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন দেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি জনিত কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকার জন্য আমার জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের ইতিমধ্যে বলে দেয়া হয়েছে।’

সীমান্তের লোকজন জানিয়েছে, শনিবারের অভিযানে বড় মাপের একজন আন্তর্জাতিক সোনা চোরাচালান সহ বিপুল পরিমাণের সোনা ও মূদ্রা উদ্ধারের ঘটনাই প্রমাণিত হয়েছে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য সঠিক। আটক মংমং সেনও সোনা বিক্রির কোনও বৈধ কাগজপত্র বিজিবি এবং পুলিশকে দেখাতে পারেননি। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টরেট এবং রেভিনিউ মুন্সিখানায় সন্ধান করেও টেকনাফের মংমং সেনের নামে কোনও বৈধ কাগজ পাওয়া যায়নি। তবে টেকনাফে লাইসেন্সধারী ২৩ জন স্বর্ণকার এবং ৫ টি জুয়েলারির দোকান থাকার তালিকা থাকলেও বাস্তবে শতাধিক সোনার দোকান রয়েছে।

এদিকে আটক মংমং সেনের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে টেকনাফ থানায় মামলা (নম্বর-৮) দায়েরের পর রবিবার বিকালেই তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সংসদীয় আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি আবদুর রহমান বদির খালাত ভাই সম্পর্কিত আটক মংমং সেনের বিরুদ্ধে টেকনাফের ২ নম্বর বিজিবি ব্যাটালিয়ানের হাবিলদার মোঃ জাহিদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। বাদী উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরেই মংমং সেন সোনা চোরাকারবারে জড়িত রয়েছেন। মংমং সেনের কোন বৈধ কাগজ পত্রও নেই। তার ঘরে উদ্ধার করা সাড়ে ৯ কেজি সোনা চোরাইপথে পাচার করে আনা। এসব চোরাই সোনা বিক্রির বিপুল অংকের দেশী-বিদেশি মুদ্রাই একই অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে।

শীর্ষ ইয়াবা গডফাদার মংমং সেন

টেকনাফ থানা পুলিশ ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি টেকনাফের শাপলাপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করেছিল ১০ হাজার ইয়াবার একটি চালান। এ ঘটনায় আটক করা হয়েছিল মংমং সেনসহ ৩ জনকে। আটক অপর ২ জন হচ্ছেন গাড়ি চালক মোহাম্মদ নূর প্রকাশ বেঙ্গা ড্রাইভার ও নয়াপাড়া শিবিরের রোহিঙ্গা মোহাম্মদ ইউনুস। উদ্ধার করা ১০ হাজার ইয়াবার মালিক ছিলেন মংমং সেন। সেই মংমং সেন ইয়াবার মালিক হওয়া সত্বেও অল্পদিনের মধ্যেই আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেলেও এখনো অপর ২ জন কারগারে আটক রয়েছেন। সেই মামলাটি (এসটি-১৬৩/১৬) বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। ইয়াবা উদ্ধারের এই মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা উপ পুলিশ পরিদর্শক আনিসুর রহমান আদালতে দেয়া ফরোয়ার্ডিংয়ে উল্লেখ করেন-‘আসামি মংমং সেন তালিকাভুক্ত একজন ইয়াবা পাচারকারী এবং গডফাদার। মিয়ানমারে তার আত্মীয়স্বজন থাকায় সেখান থেকে বড় বড় চালানে ইয়াবা পাচারে তিনি যথেষ্ট সুবিধা পেয়ে থাকেন।’

মংমং সেন দ্বৈত নাগরিক

এমপি আবদুর রহমান বদির পিতা মরহুম এজাহার মিয়া কম্পানির একাধিক স্ত্রীর মধ্যে একজন রাখাইন। সেই সূত্রেই আটক মংমং সেন এমপি বদির খালাত ভাই সম্পর্কিত। আটক মংমং সেনের পিতা মৃত অংসেন এবং মাতা মৃত চিংনু থেইন। টেকনাফের লামার বাজার চৌধুরী পাড়া তাদের ঠিকানা হলেও তারা মিয়ানমারেরও নাগরিক। মিয়ানমারেও মংমং সেন ভোটার বলে টেকনাফের কয়েক ব্যক্তি জানিয়েছেন। তবে মিয়ানমার থেকে যে কোনও তথ্য সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন বিধায় এ ব্যাপারে তেমন উচ্চবাচ্য করা হয়না। তবে মংমং সেন টেকনাফেও ভোটার রয়েছেন। তিনি চট্টরগ্রামেও ফ্ল্যাট বাসা কিনেছেন। সেখানে তার সন্তানরা লেখাপড়া করে।

মন্তব্য