kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সোনামসজিদ স্থল বন্দরে পণ্য আমদানী বন্ধ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ মার্চ, ২০১৬ ১৯:৫৫



সোনামসজিদ স্থল বন্দরে পণ্য আমদানী বন্ধ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানীকারকরা পাথর না নেয়ার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে রবিবার সকাল থেকে সব পণ্য রপ্তানি বন্ধ রাখে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা। তবে সন্ধ্যায় ১৮টি পিঁয়াজ ও ৩ টি খৈল ভর্তি ট্রাক প্রবেশ করে।

ভারতীয়রা রপ্তানি বন্ধ রাখায় সোনামসজিদের বিপরীতে মোহদিপুর স্থলবন্দরে আটকা পড়েছে পণ্যভর্তি কয়েক‘শ ট্রাক। রবিবার রাতে আমদানিকারকদের সাথে জেলা প্রশাসনের বৈঠক হবে বলে জানা যায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আসা পাথরের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি, ভারতীয় ট্রাক পাকুড় থেকে সরাসরি বাংলাদেশে ঢুকতে না দিয়ে মহদীপুরে ডাম্পিং করা, নিম্নমানের পাথর ও মাটি মেশানো, ইচ্ছাকৃত যানজট ও কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টিসহ দেশীয় আমদানিকারকদের বিপাকে ফেলে ফায়দা নেয়ায় আমদানিকারকরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। পদ্মা সেতু ও রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে পাথরের ব্যাপক চাহিদার কারণে ভারতীয় পাথর রপ্তানিকারকরা এটিকে পুঁজি করে ফায়দা লুটছে বলে অভিযোগ আমদানিকারকদের। রপ্তানিকারকরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও জিম্মি করে বাংলাদেশী আমদানিকারকদের কাছ থেকে অধিক মুনাফা আদায় শুরু করে।

৭ মাস আগে ভারতের রপ্তানিকারকরা রকম ভেদে যে পাথরের দাম নিত প্রতি সিএফটি ১৮-২২ রুপি, ২ মাস আগে তা নির্ধারণ করে ২৮-৩০ রুপী। আর কিছুদিন আগে তা দাঁড়ায় ৩৬-৩৭ রুপি। সে কারণে পদ্মা সেতু ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে পাথর সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছিলনা আমদানিকারকদের। এতে করে চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় আমদানিকারকদের।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে রপ্তানিকারকরা পাথর ওজন হিসাবে মেট্রিক টন হিসাবে রফতানি না করে সিএফটি ওজন হিসাবে এবং তা ২ টাকা করে কম করারও সিদ্ধান্ত নেন। এছাড়াও ২ মার্চ থেকে বোল্ডারের এলসি ভ্যালু টন প্রতি ১৮ ডলারের স্থলে ১৪ ডলার হিসাবে নেয়া এবং মান নিয়ন্ত্রনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু এর ৩ দিন পরই গৃহীত সিদ্ধান্ত না মানতে পারার অপারগতার কথা জানিয়ে চিঠি দেয় রপ্তানিকারকরা। এতে করে আবারো জটিলতার আশঙ্কা দেখা দেয়। বাধ্য হয়ে আগের করা এলসির পাথর আসার একপর্যায়ে শনিবার গৃহিত সিদ্ধান্ত না মানা হলে পাথর আনা রবিবার থেকে বন্ধ থাকবে বলে রফতানিকারকদের জানিয়ে দেয় আমদানিকারকরা।

পাথর না নেয়ার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষীতে গতকাল রবিবার সকাল থেকে সব পন্য রপ্তানি বন্ধ রাখে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা। তবে সন্ধ্যায় কয়েকটি পিঁয়াজ ভর্তি ট্রাক প্রবেশ করে বলে জানায় পানামা কর্তৃপক্ষ। সোনামসজিদ আমদানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব ,পানামা স্থানীয় অফিস সুত্র এসব নিশ্চিত করেন। এ বিষয়ে মহদীপুর স্থল বন্দর রপ্তানিকারক গ্রুপের সেক্রেটারি সুকুমার সাহার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমস এর সহকারী কমিশনার সাইদ আহম্মেদ রুবেল জানান,প্রতিদিন ভারত থেকে প্রায় আড়াইশ ট্রাক বা ১০ হাজার মেট্রিক টন পাথর আমদানি হয় ভারত থেকে। সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে জানুয়ারী মাসে ৬ হাজার ৮০৪ ট্রাক ভর্তি ২ লক্ষ ৪১ হাজার মেট্রিক টন পাথর আমদানি হওয়ায় সরকার রাজস্ব আয় করে প্রায় ২২ কোটি টাক। এসব পাথর দেশের মেগা প্রকল্পে ব্যবহার হচ্ছে।

সোনামসজিদ পানামা পোর্ট লিঙ্ক অফিস ও আমদানীকারক গ্রুপ অফিস সূত্রে জানা যায় গত নভেম্বর মাসে ৫ হাজার ৩৯৭ ট্রাক বা ১ লক্ষ ৮৯ হাজার মেট্রিক টন ,ডিসেম্বর মাসে ৭ হাজার ১০২ ট্রাক বা আড়াই লক্ষ মেট্রিক টন ও ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৫ হাজার ৭৫০ ট্রাক বা  প্রায় ২ লক্ষ মেট্রিক টন পাথর আমদানি হয়। যা গত ৪ মাসে আসে ২৫ হাজার ট্রাক বা  প্রায় ৯ লক্ষ মেট্রিক টন পাথর।

 


মন্তব্য