বখাটে ছাত্রকে আটক করে ছেড়ে দিয়েছে-332861 | সারাবাংলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


বখাটে ছাত্রকে আটক করে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ

ভোলা প্রতিনিধি   

৬ মার্চ, ২০১৬ ১৯:১৮



বখাটে ছাত্রকে আটক করে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ

ভোলার তজুমদ্দিনে আরজু বেগম নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অপহরণের চেষ্টা করে একদল অপহরণকারী। এ সময় ওই ছাত্রীর সহপাঠিও অভিভাবকরা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। অপহরণে ব্যর্থ হয়ে সহপাঠি ও অভিভাবকদের ওপর হামলা চালায় তারা। হামলায় অন্তত ১২ জন আহত হয়। এর মধ্যে গুরুতর দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে এক অপহরণকারীকে আটক করার পর তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এতে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, তজুমদ্দিন উপজেলার সম্ভুপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষার্থী আরজু বেগমকে প্রায়ই উত্যক্ত করত ওই উপজেলার চাঁদপুর সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ওই ইউনিয়নের দালালকান্দি গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে আরিফ। রবিবার শারীরিক শিক্ষা পরীক্ষা শেষে ওই পরীক্ষার্থী আরজু বেগম বেলা সোয়া ১টার দিকে তজুমদ্দিন সরকারি ফজিলতুন নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় সেখানে বখাটে আরিফের নেতৃত্বে কয়েকজন অপহরণকারি একটি মোটরসাইকেল নিয়ে প্রকাশ্যে এসএসসি পরীক্ষার্থী আরজুকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় আরজুর সহপাঠি ও অভিভাবকরা অপহরণকারিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে অপহরণে ব্যর্থ হয়ে অপরহরণকারিরা আরজুর সহপাঠি ও অভিভাবকদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর মধ্যে গুরুতর আহত রাশেদ ও রাকিবকে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে সরকারি ফজিলতুন নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্বরত পুলিশ বখাটে আরিফকে আটক করে থানায় সোপর্দ করে। এ ঘটনায় এসএসসি পরীক্ষার্থী আরজুসহ অভিভাবকরা থানায় অভিযোগ দায়ের করে। কিন্তু পুলিশ প্রভাবশালী মহলের চাপে বিকেলে আটককৃত বখাটে আরিফকে ছেড়ে দেয়। এ খবর পেয়ে স্থানীয় ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে তজুমদ্দিন থানার ওসি মাসুম তালুকদার বলেন, এটা অপহরণ নয়, ওই ছাত্রী ও ছাত্রদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। পরে আটককৃত ছাত্র আরিফকে থানায় নিয়ে আসার পর অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে বিকেলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সম্ভুপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামালউদ্দিন বলেন, ইভটিজিংয়ের সময় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বখাটে আরিফকে আটক করার পর তাকে থানায় নিয়ে আনা হলো। আমরা ছাত্রীদের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগও দায়ের করলাম। কিন্তু এরপরও পুলিশ কেন বখাটেকে ছেড়ে দিয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। সেটা পুলিশই ভালো বলতে পারবেন। তিনি আরো বলেন, শুধু আরজু নয়, ওই স্কুলের ছাত্রী নিপা ও শম্পাকেও উত্যক্ত করতো বখাটে আরিফ ও তার দলবল। তবে, বখাটে আরিফকে ছেড়ে দেওয়ায় বখাটেদের উপদ্রব আরো বাড়বে এবং ছাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভূগবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মন্তব্য