kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শেরপুরে দোষী চিকিৎসকদের শাস্তির দাবীতে মহিলা পরিষদের মানববন্ধন

ভুল চিকিৎসায় গৃহবধুর স্তন কর্তনের প্রতিবাদ

শেরপুর প্রতিনিধি   

৬ মার্চ, ২০১৬ ১৯:০১



ভুল চিকিৎসায় গৃহবধুর স্তন কর্তনের প্রতিবাদ

ভুল চিকিৎসায় গৃহবধুর স্তন কর্তন ঘটনার প্রতিবাদ এবং এর সাথে জড়িত দুই চিকিৎসকের বিচার দাবিতে শেরপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ শেরপুর জেলা শাখা। ৬ মার্চ রবিবার দুপুরে শহরের নিউ মার্কেট পায়রা চত্বরে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধন কয়েকটি সামাজিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সুধীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে নারীর অঙ্গহানীর ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে কর্মরত ডা. শরীফুল ইসলাম শরীফ ও ময়মনসিংহের কুণ্ডু প্যাথলজির মালিক অধ্যাপক ডা. কে.কে. কুণ্ডুকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন জেলা মহিলা পরিষদের সভানেত্রী জয়শ্রী দাস। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি জানান। এসময় একাত্মতা পোষণ করে বক্তব্য রাখেন শেরপুর পৌরসভার মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন, শেরপুর ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি রাজিয়া সামাদ ডালিয়া, প্রেসক্লাব সভাপতি রফিকুল ইসলাম আধার, জেলা সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক নাসরিন রহমান, জনউদ্যোগ আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৬ নবেম্বর শ্রীবরদী শহরের শান ক্লিনিকে চিকিৎসক শরীফুল ইসলাম শরীফকে স্তনের ফোঁড়া দেখাতে যান কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের ভুতনীপাড়া গ্রামের দুই সন্তানের জননী ওই গৃহবধূ। একই উপজেলার লঙ্গরপাড়া গ্রামের মৃত কছর আলীর ছেলে চিকিৎসক ডা. শরীফ ওই গৃহবধূর স্তনে টিউমার হয়েছে বলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাকে ময়মনসিংহের সেহড়া এলাকার কুণ্ডু প্যাথলজিতে পাঠান। সেখানে পরীক্ষায় ফোঁড়াকে টিউমার চি‎হ্নিত করে তাতে ক্যান্সার রয়েছে বলে রোগীকে ঢাকায় পাঠানো হয়। চিকিৎসক শরীফ ১১ নভেম্বর ওই গৃহবধূর স্বামীর নিকট থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে প্রথমে ঢাকার উত্তরার আব্দুল্লাহপুর এলাকার আইচি ক্লিনিকে ভর্তি করান এবং পরে শাহবাগের মডিউল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ১৫ নভেম্বর তার বাম স্তন কেটে ফেলেন। পরবর্তীতে বায়োপসি করার জন্য প্রথমে ধানমন্ডির আনোয়ারা মেডিকেল সার্ভিসেস ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখান থেকে জানানো হয়, স্তনে কোনো ক্যান্সার নেই।
পরে গৃহবধূর স্বামী চিকিৎসক ডা. শরীফের শরণাপন্ন হলে তিনি বলেন, ভুল চিকিৎসা হয়েছে, প্লাস্টিক সার্জারি করে বিকল্প স্তন লাগিয়ে দেবো। এ ঘটনায় গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর গৃহবধুর স্বামী শেরপুরের সিআর আমলী আদালতে ওই দুই চিকিৎসককে আসামি করে একটি নালিশী মামলা দায়ের করেন।
শ্রীবরদী থানা পুলিশ গত ৪ জানুয়ারি আদালতের নির্দেশে মামলাটি রেকর্ড করেন। কিন্তু মামলা রেকর্ডের দীর্ঘ দুই মাস অতিবাহিত হলেও ওই দুই চিকিৎসককে গ্রেপ্তার কিংবা তদন্ত কার্যক্রমে পুলিশের তেমন কোন তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ করেছেন ওই গৃহবধুর স্বামী। এ বিষয়ে তারা মহিলা পরিষদের শরণাপন্ন হলে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
এদিকে, স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, মামলা তুলে নেওয়ার শর্তে মোটা অংকের টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে ঘটনাটি আপস-মীমাংসার জন্য একটি প্রভাবশালী মহল তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে শ্রীবরদী থানার ওসি এস আলম বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।


মন্তব্য