ভোলায় ১১টি আ'লীগ নির্বাচনী অফিসে-332835 | সারাবাংলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭


ভোলায় ১১টি আ'লীগ নির্বাচনী অফিসে তাণ্ডব

ভোলা প্রতিনিধি   

৬ মার্চ, ২০১৬ ১৭:১৯



ভোলায় ১১টি আ'লীগ নির্বাচনী অফিসে তাণ্ডব

ভোলা সদর উপজেলার ৩ নম্বর ইলিশা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর নেতৃত্বে তার ক্যাডাররা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ১১টি নির্বাচনী অফিস, আওয়ামী লীগ কার্যালয় ও মোটরসাইকেল ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বাড়ি-ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শনিবার গভীর রাত থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত একটি মাইক্রোবাস ও ১৩টি মোটরসাইকেল নিয়ে এ তাণ্ডব চালানো হয়েছে। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত ৫ জনকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ তাণ্ডবের ফলে এলাকার সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে ইলিশা ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনকালে তখনও ওই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মালেরহাট, বান্দেরহাট, রৈদেরহাট ও বিশ্বরোড এলাকাসহ কয়েকটি এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বেশ কয়েকটি নির্বাচনী অফিস ও তার কর্মী-সমর্থকদের বাড়ি-ঘরে হামলা-ভাঙচুর চালাচ্ছিলেন আওয়ামী লীগদলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী গিয়াসউদ্দিন ও তার ক্যাডাররা।
৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিশ্বরোড এলাকায় গিয়ে চোখে পড়ে ইলিশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাঙচুরের দৃশ্য। ওই কার্যালয়ের প্রবেশ পথে পড়ে রয়েছে ভেঙে ফেলা দুইটি মোটরসাইকেল। ভেতরে ভাঙচুর করা হয়েছে অফিসের চেয়ার-টেবিলসহ আসবাবপত্র। স্থানীয়রা জানায়, এ অফিসটি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী জহিরউদ্দিন (আনারস প্রতিক) ব্যবহার করতেন। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী (নৌকা প্রতিক) গিয়াসউদ্দিনের ক্যাডাররা এ অফিসে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। পাশেই আওয়ামী লীগদলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর একটি নির্বাচনী অফিস তছনছ অবস্থায় দেখা যায়। সেখানে উপস্থিত ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি হিরন লাট বলেন, স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী জহিরউদ্দিনের কর্মী-সমর্থকরা আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর এ অফিসটি ভেঙে ফেলে। মালেরহাটে গিয়েও দেখা যায়, ওই এলাকায় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর একটি নির্বাচনী অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের দৃশ্য। ওই এলাকার গৃহবধূ রাহিমা বেগমসহ স্থানীয়রা জানান, দুপুর ১টার দিকে আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী গিয়াসউদ্দিনের নেতৃত্বে তার ক্যাডাররা একটি মাইক্রোবাস ও ১৩টি মোটরসাইকেল বহর নিয়ে এ অফিসসহ এলাকার অন্তত ৫-৬টি অফিস ভাঙচুর করেছে। এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী জহিরউদ্দিনের এক কর্মী ইসমাইলসহ বেশ কয়েকজন কর্মীর বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে ওই ক্যাডাররা।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী জহিরউদ্দিন (আনারস প্রতিক) অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগদলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী গিয়াসউদ্দিন (নৌকা প্রতিক) এর নেতৃত্বে দলীয় ক্যাডাররা তার ১১টি নির্বাচনী অফিস ও আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অতর্কিতভাবে হামলা-ভাঙচুর করে তাণ্ডব চালিয়েছে। এ সময় ৩টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। লুটপাট করা হয়েছে কয়েকজন কর্মীর বাড়ি-ঘরে।

অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগদলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী গিয়াসউদ্দিন বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা তার দুইটি নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করে। পরে ওই প্রার্থী নিজেই নিজের অফিস ভেঙে আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

নির্বাচনী অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা স্বীকার করে ভোলা সদর মডেল থানার ওসি মীর খায়রুল কবির রবিবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ইলিশা ইউনিয়নে বিচ্ছিন্নভাবে বেশ কয়েকটি অফিস ভাঙচুরের খবর পেয়েছি। তবে, এ বিষয়ে লিখিত কোনও অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, আমরা একটু পরে ইলিশা ইউনিয়নে বের হবো। ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

মন্তব্য