kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ধর্মপাশায় শিক্ষকদের মানববন্ধন

দুই শিক্ষককে চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে লাথি মেরে বের করে দেয়ার প্রতিবাদ

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি   

৬ মার্চ, ২০১৬ ১৭:০৪



দুই শিক্ষককে চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে লাথি মেরে বের করে দেয়ার প্রতিবাদ

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঢুকে দুই শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রবিবার বেলা ১২টায় উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন সড়কে এক মানববন্ধন কর্মসুচি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির উদ্যোগ্যে এ মানববন্ধন কর্মসুচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন শেষে শিক্ষক নেতারা স্থানীয় সংসদ সদস্য,উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বরাবর এক স্বারকলিপি প্রদান করেন।

এ মানববন্ধন চলা কালে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি সোফেল আহম্মেদ বাচ্চু, সাবেক সভাপতি নূর উদ্দিন আহম্মেদ, শিক্ষিকা বুলবুল আক্তার চৌধুরী, শিক্ষক নেতা সমিউল কিবরীয়া, জাকির আহম্মেদ, রজত কুমার তালুকদার,বিধান কান্তি রায়,কবীর আহম্মেদ প্রমূখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিপালী রাণী দাস ও সহকারী শিক্ষিকা মনি রাণী তালুকদারকে বিদ্যালয়ে ঢুকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সর্বানন্দ তালুকদার ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী যে ভাবে চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে মারধর করে বিদ্যালয় থেকে তাদেরকে বের করে দেওয়া হয়েছে- ঘটনাটি পুরো জাতির জন্য একটি কলংকিত অধ্যায় এবং আমরা এ কলংক থেকে মুক্ত হতে চাই। তাই ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সর্বানন্দ তালুকদারসহ এর সাথে জড়িত ব্যাক্তিদেরকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান বক্তারা।

উল্লেখ্য, গত ৩ মার্চ  সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নোয়াগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সর্বানন্দ তালুকদারের নেতৃত্বে ৮-১০জন লোক হঠাৎ করে বিদ্যালয়ে ঢুকে সহকারী শিক্ষিকা মনি রাণী তালুকদারকে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করতে থাকে এবং তাকে জোর পুর্বক বিদ্যালয় থেকে চুল ধরে টেনে হিঁচড়ে বের করে দেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা দিপালী রাণী দাস তাদেরকে বাধা দিলে সভাপতি সর্বানন্দ তালুকদার ও তার লোকজন আরও ক্ষিপ্ত  হয়ে পরে দুই জনকেই তারা  চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে,কিল, ঘুঁষি ও লাথি মেরে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়। এ সময় তারা বিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষক হাজিরা রেজিস্ট্রার খাতাও ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সর্বানন্দ তালুকদার এসব ঘটনাকে মিথ্যা সাজানো নাটক বলে আখ্যায়িত করে বলেন, ওই দুই শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে বছরের পর বছর গড় হাজির থাকেন। তাদেরকে অন্যত্র বদলি করে দেওয়ার ভয়েই তারা আমার বিরুদ্ধে এ নাটকটি সাজিয়েছেন। আমি উক্ত ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

 


মন্তব্য