১৯৭১ সালের মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে-332522 | সারাবাংলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


১৯৭১ সালের মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে খুলনা আগ্নেয়গিরিতে পরিণত হয়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ মার্চ, ২০১৬ ২০:৪৪



১৯৭১ সালের মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে খুলনা আগ্নেয়গিরিতে পরিণত হয়

তৎকালীন পাক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের শাসন-পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের কাছে অযৌক্তিক ও অকার্যকর হয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে দেশ কার্যত ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বর থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত হওয়ায় ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে খুলনা শহর আগ্নেয়গিরিতে পরিণত হয়।
খুলনার তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা মো. ইউনুস আলী ইনু বাসস’র সঙ্গে আলাপকালে শহরের সেই পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনা পেয়ে তারা খুলনা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ (সিএসপি) গঠনের মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।
তিনি বলেন, ‘১৯৭০ সালের নির্বাচনে জাতীয় আইন পরিষদের সর্বাধিকার আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজয়ী আওয়ামী লীগ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে এবং পাকিস্তানী জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে হাজার হাজার লোক মিছিলে অংশ নিয়ে বজ্রকন্ঠে স্লোগান দেয়।’
ইনু জানান, শহীদ হাদিস পার্কে অনুষ্ঠিত এক সভায় ছাত্রলীগ নেতা এস এম বাবর আলীকে আহবায়ক এবং হুমায়ুন কবির বালুকে যুগ্ম-আহবায়ক করে ৮ সদস্যবিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এতে সদস্য ছিলেন শেখ আবদুল কাইয়ুম, হায়দার গাজী, সালাহউদ্দিন রুনু, হেকমত আলী ভুইয়া, আবুল কাশেম, সিরাজুল হক ফকির ও মাহবুব আলম হারুন।
মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিব বাহিনীর (বিএলএফ) ডেপুটি কমান্ডার ইউনুস আলী ইনু আরো বলেন, তৎকালীন সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতারা এই কমিটিকে খুলনায় পাকিস্তানী শাসকদের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের ক্ষেত্রে পরামর্শ দিতেন।
অসহযোগ আন্দোলনে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি ছাত্ররা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে এ কমসূচিতে যোগদান করলে আন্দোলন পূর্ণতা লাভ করে।
এ অঞ্চলের সরকারি-বেসরকারি কলকারখানা এবং চিংড়ি খামারসহ অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানেও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
আন্দোলন চাঙ্গা করতে খুলনা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ সকালে শহীদ হাদিস পার্কে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের এক সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে সর্বস্তরের হাজার হাজার লোক অংশ নেয়।
এদিকে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী হরতাল, অবরোধ, সমাবেশ ও প্রতিবাদ বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং শ্রমিক ও ছাত্র সংগঠন এর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে। খালিশপুর-দৌলতপুর এলাকার শ্রমিকরা এসব কর্মসূচি পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মুক্তিযোদ্ধা ও সিএসপি সদস্য শেখ আব্দুল কাইয়ুম বলেন, খুলনা বেতার ও সাপ্তাহিক দেশের ডাক এ সময় জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মন্তব্য