kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শিক্ষককে প্রকাশ্যে মারধরের প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে ক্লাস বর্জন, বিক্ষোভ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

৫ মার্চ, ২০১৬ ১৯:১১



শিক্ষককে প্রকাশ্যে মারধরের প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে ক্লাস বর্জন, বিক্ষোভ

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তিতারকান্দি ভূঁইয়ারহাট ফাজিল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মোর্শেদ আলমকে শ্রেণিকক্ষ থেকে তুলে নিয়ে প্রকাশ্যে মারধর করার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্লাশ বর্জন করেছে। আজ শনিবার সকালে তারা মাদ্রাসার শ্রেণি কক্ষের দরজাগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

এ সময় তারা ঘটনার সাথে জড়িত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিষ্ঠান প্রধানকে স্মারকলিপি দেয়। খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সমর কান্তি বসাক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এদিকে, ক্লাসে এক ছাত্রীকে শাসন করার জের ধরে উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্ঠি হওয়ায় শিক্ষক মোর্শেদ আলমকে শোকজ করেছেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে বিষয়টি সুরাহাকল্পে আজ দুপুরে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা বৈঠক করেন। বৈঠকে আগামীকাল রবিবার দুপুর ১২টায় অভিযুক্তরা মাদ্রাসায় এসে লাঞ্চিত হওয়া শিক্ষকের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজন জানায়, মাদ্রাসার শিক্ষক মোর্শেদ আলম বৃহস্পতিবার সকালে নবম শ্রেণির ছাত্রীকে (সুমি আক্তার) ক্লাসে শাসন করেন। এ খবর পেয়ে ওইদিন দুপুরে ছাত্রীর বাবা তিতারকান্দি গ্রামের আবদুর রহিম বহিরাগত দলবল নিয়ে মাদ্রাসায় আসে। এ সময় মোর্শেদ ৭ম শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছিলেন। তারা শ্রেণিকক্ষে ঢুকে গাল-মন্দ করে ওই শিক্ষককে তুলে মাঠে নিয়ে প্রকাশ্যে মারধর করে। এতে বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। এর জের ধরে আজ শনিবার সকালে শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে জড়ো হয়। এ সময় তারা মাদ্রাসার শ্রেণি কক্ষের দরজাগুলোতে তালা ঝুলিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও
মানববন্ধন করে। সে সময় উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়।

এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত আবদুর রহিমের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে তিতারকান্দি ভূঁইয়ারহাট ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আ ন ম মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি দু:খজনক। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে শনিবার কোন ক্লাস হয়নি। বিচারের আশ্বাস দিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করা হয়েছে। রবিবার ১২টায় অভিযুক্তরা বিদ্যালয়ে এসে লাঞ্চিত হওয়া শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চাইবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষক মোর্শেদ আলমকে শোকজ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সমর কান্তি বসাক বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। রবিবার থেকে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।

 
 

 

 


মন্তব্য