নড়াইলে ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব ও-332472 | সারাবাংলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০১৬। ১৬ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৮ জিলহজ ১৪৩৭


নড়াইলে ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব ও লাঠিখেলা

নড়াইল প্রতিনিধি    

৫ মার্চ, ২০১৬ ১৭:০৬



নড়াইলে ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব ও লাঠিখেলা

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় অবস্থিত আমাদা আদর্শ কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে গ্রামীণ পিঠা উৎসব ও লাঠিখেলার আয়োজন করা হয়। গতকাল শুক্রবার কলেজ মাঠে দিনব্যাপী এ পিঠা উৎসব ও লাঠিখেলা অনুষ্ঠিত হয়। ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ পিঠা উৎসব ও লাঠিখেলার আয়োজনে এলাকাটি হাজারো মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

বিকেলে পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো.  সিদ্দিকুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন কলেজের অধ্যক্ষ আল ফয়সাল খান, লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কাজী বশিরুল হক বশির, বনি আমীন কলেজের প্রভাষক রূপক মূখার্জী, ফরহাদ খান, সাংবাদিক সুলতান মাহমুদ প্রমুখ।
 
শাহী টুকরো পিঠা, ভাপা পিঠা, দুধকুলি, শাহি রুটি, ধুপি পিঠা, হাত আনদোসা, রসপাকান, ফুলপাকান, পদ্মপাকান, ভাজা পিঠা, তকতি পিঠা, নকশা পিঠা, সিরিঞ্জ পিঠা, জজি পিঠা, আপেল পিঠা, চিতই পিঠা, কুলি পিঠা, খেজুর পিঠা, লাভ পিঠা, ডিম পিঠা, নারকেলের চিড়া, দুধচিতই পিঠাসহ অন্তত ৪০ প্রকার পিঠার সমারোহে ভরে উঠে স্টলগুলো। শুধু পিঠার স্বাদ আর নকশারই বৈচিত্র্য নয়, স্টলের নামের ক্ষেত্রেও ছিল ভিন্নতা। জামাই আদর, যেমন তেমন, বাঁকা চরণ, আড়াই মিনিট, রসালো রস, কুটুমবাড়ি, রকমারি, রসের হাঁড়িসহ বিভিন্ন স্টল।

পিঠা উৎসব চলাকালে মাঠের একপ্রান্তে তখন শুরু হয় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা। বীরশ্রেষ্ঠ নুর মোহাম্মদ লাঠিখেলা যুব সংঘের লাঠিয়ালের দল প্রায় ঘণ্টাব্যাপী লাঠিখেলা প্রদর্শন করে। আর গ্রামের কয়েক হাজার পুরুষের সাথে নারীরাও এ খেলা উপভোগ করেন।

আমাদা আদর্শ কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সাথী খানম বলেন, "আবহমান বাংলার ঐহিত্য সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে পিঠা উৎসবের এ  আয়োজন। জাকিয়া তাজিন অন্তর ও আফসানা মিমি অন্তরা বলেন, "আজকের দিনটি একেবারে অন্যরকম। অনেক আনন্দের, হাজারো মানুষের মিলনমেলার দিন এটি।"

অনুষ্ঠানের আয়োজক আমাদা আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ আল ফয়সাল খান বলেন, "আগের দিনে গ্রামেগঞ্জে হরেক রকম পিঠা তৈরি করা হতো। যান্ত্রিকতার যাতাকলে পিঠাপুলির আয়োজন এবং লাঠিখেলা আনন্দ-উৎসব কিছুটা হলেও কমে গেছে। বিশেষ করে নব প্রজন্মের কাছে পিঠার আদি ঐহিত্য ছড়িয়ে দিতে এ উৎসবের আয়োজন। আগামীতেও আমাদের এ  আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি।"

লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী বশিরুল হক বলেন, "একটি গ্রামের কলেজে এ ধরনের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। আমরা এ জাতীয় গ্রামীণ ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে এ ধরনের আয়োজনের সঙ্গে সব সময় আছি।"

 

মন্তব্য