kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


তিতাস কর্মকর্তাদের যোগসাজসের অভিযোগ

কেরানীগঞ্জে কারখানায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের হিড়িক

আলতাফ হোসেন মিন্টু, কেরানীগঞ্জ থেকে    

৫ মার্চ, ২০১৬ ১৬:১৭



কেরানীগঞ্জে কারখানায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের হিড়িক

ঢাকার কেরানীগঞ্জে ওয়াশিং ডাইং কারখানাগুলোতে অবৈধ গ্যাস সংযোগের হিড়িক পড়েছে। ওয়াশিং ডাইং কারখানাগুলোতে অবৈধ গ্যাস সংযোগে তিতাস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, কেরানীগঞ্জে শতাধিক ওয়াশিং ডাইং কারখানা রয়েছে। এসব ওয়াশিং ডাইং কারখানা চালাতে হলে প্রয়োজন উচ্চচাপসমৃদ্ধ বাণিজ্যিক গ্যাস সংযোগ। আজ শনিবার সকালে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন ওয়াশিং ডাইং কারখানাগুলোতে সরোজমিনে দেখা গেছে, শতাধিক ওয়াশিং ডাইং কারখানার মধ্যে প্রায় অর্ধেক কারখানাগুলোতে নেই কোনো বৈধ গ্যাস সংযোগ। বৈধ গ্যাস সংযোগ না থাকলেও কারখানাগুলোতে অবৈধভাবে স্থাপন করা হয়েছে হেভি প্রেসার (উচ্চ চাপ) গ্যাস সংযোগ। অভিযোগ পাওয়া গেছে গ্যাস অফিসে নামমাত্র মাসোয়ারা দিয়ে দেদারসে তারা অবৈধ গ্যাস বৈধভাবে ব্যবহার করে যাচ্ছে। এ ছাড়া যে কারখানাগুলোতে বৈধ সংযোগ রয়েছে তার বেশির ভাগ কারখানাগুলোতেও নিয়মবহির্ভুতভাবে গ্যাস লাইনে স্থাপন করা হয়েছে কম্প্রেসার (লাইন থেকে গ্যাস টেনে আনার বৈদ্যুতিক যন্ত্র)। অথচ কোনো কারখানাতেই কম্প্রেসার স্থাপনের অনুমতি নেই। ফলে গ্যাস পাচ্ছে না আবাসিক গ্রাহকরা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে উপজেলার লক্ষাধিক আবাসিক গ্রাহক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেরানীগঞ্জের একাধিক ওয়াশিং ডাইং কারখানার মালিক জানান, দোহার ওয়াশিং, সততা ওয়াশিং, শ্রাবণী ওয়াশিং, দিপা ওয়াশিং, মক্কা ওয়াশিং, মায়ের দোয়া ওয়াশিং ২, জিলানী ওয়াশিং, আল্লাহ রাসুল ওয়াশিং, এমএস ওয়াশিং ‌এবং ফ্রেন্ডশিপ ওয়াশিংসহ বেশ কয়েকটি ওয়াশিং ডাইং কারখানার মালিক প্রতিমাসে তিতাস গ্যাস অফিসে ১০-২০ হাজার টাকা মাসোয়ারা দিয়ে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করে কারখানা পরিচালনা করছে। তারা আরো জানান, অনেক কারখানাগুলোতে বৈধ সংযোগের পাশাপাশি রয়েছে অবৈধ সংযোগ। প্রশাসনের লোক তদন্তে আসার আগেই তিতাসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে তারা জেনে যায়। তখন তারা অবৈধ সংযোগ বন্ধ রেখে বৈধ সংযোগ চালু করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক ওয়াশিং কারখানার মালিক অভিযোগ করে বলেন, "তিতাস গ্যাসের ঠিকাদার ইউসুফ, সিরাজ, শাহ আলমের সহযোগিতায় তিতাস গ্যাস মেট্রো বিক্রয় বিভাগ জোন-৫ জিনজিরা কার্যালয়ের রাজস্ব শাখার সাবেক উপব্যবস্থাপক সরকার আলম এবং  উপসহকারী প্রকৌশলী নুরুল আমীন অবৈধ গ্যাস বাণিজ্য চক্রটি গড়ে তোলে। ঠিকাদার সিরাজই মূলত অবৈধ সংযোগ বাণিজ্যের মূল হোতা। তার মাধ্যমেই বেশির ভাগ অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীরা গ্যাস অফিসের মাসোয়ারা পরিশোধ করে থাকেন। গত কয়েক মাস আগে সরকার আলম ও নুরুল আমীন জিনজিরা কার্যালয় থেকে বদলি হয়ে গেলেও অবৈধ গ্যাস বাণিজ্য চক্রটি এখনও সক্রিয়। পরে বিপণন বিভাগের নতুন ব্যবস্থাপক সাকির আহমেদ অবৈধ গ্যাস বাণিজ্যের ধারা অব্যাহত রেখেছেন।

এ ব্যাপারে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারী দোহার ওয়াশিং কারখানার মালিক ফজলু খালাসীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, "আমরা পার্টি করি, আমাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করবেন না। " পরে তার বৈধ সংযোগ রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমার লোক আপনার সঙ্গে দেখা করবে। " শ্রাবণী ওয়াশিং এর সত্ত্বাধিকারী জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই মো. লিটন অবৈধ গ্যস ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমরা বৈধ সংযোগের জন্য আবেদন করেছি। আপাতত আমরা এলপি গ্যাস দিয়ে কারখানা পরিচালনা করছি। "

ঠিকাদার ইউসুফের সঙ্গে মুঠোফেনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রায় ১০-১২ টি ওয়াশিং কারখানায় বৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে। বাকিগুলোতে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে। এর সঙ্গে কে কে জড়িত জানতে চাইলে তিনি বলেন, "সাবেক উপব্যবস্থাপক সরকার আলম ও উপসহকারী প্রকৌশলী নুরুল আমীন আমাদের কয়েকজন ঠিকাদারদের মাধ্যমে অবৈধ সংযোগ বাণিজ্য শুরু করেছিল। তারা বদলি হয়ে যাওয়ার পর এখনও কারা এর সঙ্গে জড়িত রয়েছেন তা জানি না। "  

কেরানীগঞ্জ ওয়াশিং মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মইনুল হাসান (হুমি) বলেন, "আমরা অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের পক্ষপাতি নই। আমাদের সমিতির আওতায় মাত্র ৭১টি ওয়াশিং ডাইং কারখানা রয়েছে। গ্যাস কর্তৃপক্ষ চাইলে আমরা সবার নাম ঠিকানা দিতে পারবো। তারপর তারা অভিযান চালিয়ে দেখুক কারা বৈধ এবং কারা অবৈধ।

তিতাস গ্যাস মেট্রো বিক্রয় বিভাগ জোন-৫ জিনজিরা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক সাকির আহমেদ বলেন, "আমি মাত্র কয়েকমাস ধরে এখানে এসেছি। এখনও সবকিছু বুঝে নিতে পারিনি। বাণিজ্যিক ও শিল্পের অবৈধ সংযোগের তথ্য প্রমাণ পেলে আমরা সেগুলো বিচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনা করবো। "

 


মন্তব্য