kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কেরানীগঞ্জে যৌতুকের জন্য স্বামীর নির্যাতনে স্ত্রী নিহত

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি    

৫ মার্চ, ২০১৬ ১৫:১৩



কেরানীগঞ্জে যৌতুকের জন্য স্বামীর নির্যাতনে স্ত্রী নিহত

ঢাকার কেরানীগঞ্জে যৌতুকের জন্য স্বামীর নির্যাতনে স্ত্রী নিহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত ওই গৃহবধূর নাম মাকসুদা বেগম (২৫)।

তাঁর স্বামীর নাম সিরাজুল ইসলাম সরদার। শুক্রবার রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন জিনজিরা ইউনিয়নের বন্দ ডাকপাড়া এলাকার নুরু মিয়ার ভাড়াটিয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে পলাতক নিহতের স্বামী সিরাজুল ইসলাম সরদার পলাতক রয়েছেন।

নিহত গৃহবধূর ভাই মো. নূরে আলম মোল্লা বলেন, "আমাদের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার পালং থানার উপুরগাও এলাকায়। প্রায় ৭-৮ বছর আগে আমাদের পার্শ্ববর্তী চরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা করিম সরদারের ছেলে সিরাজুলের সঙ্গে পারিবারিকভাবে আমার বোনের বিয়ে হয়। তাদের ৭-৮ বছর সংসার জীবনে চাঁদনী নামে ছয় বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকে অর্থলোভী সিরাজুল ইসলাম আমার বোনের ওপর যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। বোনের সুখের কথা ভেবে ইতিপূর্বে তাকে কয়েক দফা যৌতুক দেওয়া হয়েছে। "

নূরে আলম মোল্লা আরো বলেন, "মাসখানেক আগে সিরাজুল ব্যবসা করার কথা বলে আমার বোনের কাছে ফের দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। সপ্তাহখানেক আগে দেশের বাড়িতে গিয়ে সে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে আসে। যৌতুকের বাকি টাকা চেয়ে শুক্রবার রাতে ঘাতক সিরাজুল আমার বোনের সঙ্গে ঝগড়া করে। একপর্যায়ে সে মাকসুদাকে বেধড়ক প্রহার করতে থাকে। এতে মাকসুদা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে তার মুখে বিষ ঢেলে দেয় সে। এরপর আত্মহত্যা বলে প্রচার করে। পরে লোকজনের সহায়তায় তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মাকসুদার মরে যাওয়ার খবর জানতে পেরে হাসপাতালে তার লাশ রেখেই সিরাজুল পালিয়ে যায়। ওই বাড়ির অন্য ভাড়াটেদের কাছে খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে আমার বোনের লাশ দেখতে পাই। "

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই বাদশা আলম বলেন, "খবর পেয়ে মিটফোর্ড হাসপাতালে গিয়ে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করি। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ সময় নিহতের বাম চোখে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। "

 


মন্তব্য