kalerkantho


ধর্মপাশায় নৌপথে বেপরোয়া চাঁদাবাজি, মাঝিকে মারধর

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি    

৪ মার্চ, ২০১৬ ১৯:১৭



ধর্মপাশায় নৌপথে বেপরোয়া চাঁদাবাজি, মাঝিকে মারধর

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা নৌপথে আজ শুক্রবার দুপুরে মায়ের দোয়া পরিবহন নামে একটি বাল্ক-হেড নৌকার মাঝি ফজলু মিয়াকে (৩৫) মারধর করে পাঁচ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে চাঁদাবাজরা। আহত মাঝি ফজলু মিয়াকে উপজেলার জয়শ্রী বাজারে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার বৌলাই নামক নৌপথ দিয়ে পাশের তাহেরপুর উপজেলার বড়ছড়া ও ছারারগাঁও কয়লা শুল্ক স্টেশন থেকে কয়লা ও ফাজিলপুর থেকে বালু-পাথর বোঝাই করে প্রতিদিন শতশত বাল্ক-হেড নৌকা এ নৌপথ দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। এ সুযোগে উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের বানারশিপুর গ্রামের বাসিন্দা ও জয়শ্রী ইউপি সদস্য শুক্কুর আলীর ছেলে আয়নাল মিয়ার নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি চাঁদাবাজ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ নৌপথে  বেপরোয়া চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছে। চাঁদাবাজরা প্রতিদিন একটি ছোট ট্রলার নিয়ে ওই নৌপথের সুন্দরপুর, শানবাড়ি, কালামানিকিয়া ও স্বজনপুর নামক মোড়ে কয়লা, পাথর ও বালুবোঝাই বাল্ক-হেড নৌকা আটকে নৌকাপ্রতি তারা তিন থেকে চার হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে আসছে। নৌকার মাঝিরা তাদের চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে চাঁদাবাজরা এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে নৌকার মাঝিদের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারপিট করতে থাকে এবং নৌকার ভেতরে থাকা নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়।

চাঁদাবাজদের মারধরের শিকার মায়ের দোয়া পরিবহনের মাঝি ফজলু মিয়া আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় ধর্মপাশা প্রেস মিডিয়া সেন্টারে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, "আজ শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে আমার কয়লাবোঝাই নৌকাটি নদীর স্বজনপুর মোড়ে আসা মাত্রই আয়নাল মিয়ার নেতৃত্বে ১০-১২ লোক নৌকাটি আটকিয়ে চার  হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি তাদের এক হাজার টাকা দিতে চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে নৌকায় উঠে আমাকে ধরে মারধর করতে থাকে এবং আমার পকেটে থাকা পাঁচ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। " তিনি আরো বলেন, "ওই স্থানটি দুর্গম এলাকা হওয়ায় আমরা ভয়ে তাদেরকে দীর্ঘদিন ধরে প্রতি নৌকায় দুই হাজার টাকা করে চাঁদা দিয়ে আসছি। " ধর্মপাশা থানা ওসির দায়িত্বে থাকা এসআই শফিকুল ইসলাম বলেন, "এ নৌপথে পুলিশের নিয়মিত টহল অব্যাহত রয়েছে। তবে জায়গাটি দুর্গম হওয়ায় পুলিশ সেখানে পৌঁছার আগেই তারা সটকে পড়ে। "

 


মন্তব্য