মেহেদির রঙ মোছার আগেই যৌতুকের বলি -332152 | সারাবাংলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৫ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৭ জিলহজ ১৪৩৭


মেহেদির রঙ মোছার আগেই যৌতুকের বলি

মোশাররফ হোসেন, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি    

৪ মার্চ, ২০১৬ ১৮:৪৯



মেহেদির রঙ মোছার আগেই যৌতুকের বলি

হাতে এখনও মেহেদির রঙ। রঙ মুছে যাওয়ার আগেই নিভে গেল তাঁর  জীবন প্রদীপ। স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনে অকালে মৃত্যুর কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করা নববধূর নাম জান্নাতুল ফেরদৌস (১৮)। তিনি কালিগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ইউনিয়নের শেখপাড়া এলাকার রফিকুল শেখের মেয়ে।

নিহত জান্নাতুল ফেরদৌস এবার স্থানীয় শিমু রেজা এমপি কলেজের মানবিক বিভাগের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। স্বামী ও তাঁর পরিবারের লোকজনের নির্যাতনে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মারা যান তিনি। পরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ফেলে পালিয়ে যান। নববধূ জান্নাতুল ফেরদৌসকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহতের ভাই নাজমুল হাসান জানান, দেড় মাস আগে শ্যামনগর উপজেলা সদরের চণ্ডিপুর গ্রামের বাদশা সরদারের ছেলে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে তার বোনের বিয়ে হয়। বিয়ের সাত-আট দিন পর থেকে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিয়ের আসরে নগদ যৌতুকে টাকা দেওয়ার কথা ছিল উল্লেখ করে মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। পরে তারা বাবার বাড়ি থেকে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক নিয়ে আসার জন্য জান্নাতুল ফেরদৌসকে দুই-তিন দফা মারপিট করেন। বোনের সুখের কথা ভেবে যৌতুক হিসেবে নগদ টাকা না দিয়ে সংবারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেওয়া হয়। এতে তার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন ফের মারপিট করেন তাকে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এসব নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তার বোনকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে তাকে ভর্তির জন্য রাত ৮টার দিকে শ্যামনগর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। এ সময় সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জান্নাতুল ফেরদৌসকে মৃত ঘোষণা করলে ভ্যান ডেকে আনার কথা বলে স্বামী রফিকুলসহ তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে যান। পর অজ্ঞাত একটি ফোন পেয়ে তাঁরা হাসপাতালে পৌঁছে দেখেন তাঁর বোন মারা গেছেন।

শ্যমনগর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক ডা. গোপাল বিশ্বাস জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের স্বামী পরিচয় দানকারী রফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন জানান, তারা বাড়ির বাইরে থাকার সুযোগে তার স্ত্রী জান্নাতুল গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা  চালান। একপর্যায়ে দড়ি ছিঁড়ে পড়ে যাওয়ার পর তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ডা. গোপাল বিশ্বাসের দাবি হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়েছে ওই গৃহবধূর। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে।   

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ এএসপি সার্কেল মীর মনির হোসেন নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা উল্লেখ করে জানান, মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আসল ঘটনা জানা যাবে। তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় নিহতের নানা নূর মোহাম্মদ বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মন্তব্য