নীলফামারীতে বাল্যবিয়ের আয়োজন করায়-332121 | সারাবাংলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


নীলফামারীতে বাল্যবিয়ের আয়োজন করায় সাতজনের সাজা

নীলফামারী প্রতিনিধি    

৪ মার্চ, ২০১৬ ১৭:১৩



নীলফামারীতে বাল্যবিয়ের আয়োজন করায় সাতজনের সাজা

নীলফামারীতে পৃথক দুটি বাল্যবিয়ের আয়োজন করায় বরসহ চারজনের ২৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও কনের বাবাসহ তিনজনকে ৫০০  টাকা করে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ও আজ শুক্রবার সকালে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাবেত আলী পৃথক দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালতে ‌এ সাজা দেন।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি নীলফামারী সদরের লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের দুবাছড়ি ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের লেবু মিয়ার ছেলে দুলাল হোসেনের (১৬) বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। কনের বাড়িতে বরযাত্রী রওনা হওয়ার সময় বাল্যবিয়ে বন্ধের জন্য বরের বাড়িতে যান ইউনিয়নের ভিডিপি কর্মীসহ গ্রাম পুলিশ। এ সময় বর দুলালসহ বাড়ির লোকজন ভিডিপি কর্মী মোখছেদ আলীকে লাঞ্ছিত করে তার পড়নের কাপড় ছিঁড়ে ফেলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পালিয়ে যান বাড়ির লোকজন।

এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নীলফামারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বর দুলাল মিয়া, বরের বাবা লেবু মিয়া (৩৮), বরের চাচা জমির উদ্দিন (৪০) ও ইউনুছ আলীকে (৩৫) আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করলে আদালতের বিচারক তাদের প্রত্যেককে ২৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

অপরদিকে, নীলফামারী জেলা সদরের রামনগর ইউনিয়নের মাঝাপাড়ায় বৃহস্পতিবার রাতে যতীন্দ্র নাথ রায়ের পনের বছর বয়সী মেয়ের বিয়ের আয়োজন করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করে কনের বাবা যতীন্দ্র নাথ রায় (৫৫), কনের চাচা করুনা কান্ত  রায় (৪৫) এবং পুরোহিত রবীন্দ্র নাথ রায়কে (৬০) আটক করে। আজ শুক্রবার সকালে তাদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে আদালতের বিচারক তাদের প্রত্যেককে ৫০০ টাকা করে জরিমানা করে বাল্যবিয়ে না দেওয়ার মুচলেকা নেন।

নীলফামারী সদর থানার ওসি শাহজাহান পাশা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, "২৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে, আর যাদের ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে তাদেরকে জরিমানা আদায় করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।" ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাবেত আলী পৃথক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

মন্তব্য