kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


'যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানদের নাগরিক অধিকার খর্ব করা হবে'

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

৩ মার্চ, ২০১৬ ২১:০৬



'যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানদের নাগরিক অধিকার খর্ব করা হবে'

মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণের দাবি যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার। যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পাওয়া যাবে তারা অবশ্যই শাস্তি পাবে।

তাছাড়া দেশের সকল যুদ্ধাপরাধীদের শুধু শাস্তিই দেয়া হবে না, তাদের সন্তানদের নাগরিক অধিকার খর্ব করা হবে। তাদের কোনো ভোটাধিকার থাকবে না, কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না এমনকি তাদেরকে সরকারি চাকরিও দেয়া হবে না। কথা গুলো বলছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপি। আজ কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় মুক্তাঞ্চল মঞ্চে অনুষ্ঠিত আ’লীগের এক জন সভায় তিনি ওইসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বলেন দেশে আইএস’র নেটওয়ার্ক রয়েছে। তিনি বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র বানাতে, ব্যর্থ রাষ্ট্র বানাতে উঠেপড়ে লেগেছে। বিদেশীদের সঙ্গে চক্রান্ত করছে। যুদ্ধাপরাধী প্রমাণিত হওয়ার পর মুজাহিদ, সাকা চৌধুরীদের মৃত্যু দণ্ড কার্যকরার পর ওই স্বাধীনতা বিরোধীদের উৎসাহে পাকিস্তান পার্লামেন্টে পাস করা হয়। বাংলাদেশে কোনো যুদ্ধাপরাধী নেই। মুক্তিযুদ্ধে যে ৩০ লাখ মা-বোন শহীদ হওয়ার বিষয়টিও তারা অস্বীকার করেছে। আপনরা জানেন, মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করতে বেগম খালেদা জিয়া নানা ভাবে চক্রান্ত করছেন। তিনি এখন বলছেন মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩০ লাখ মা-বোন শহীদ হয়নি। অথচ এই খালেদা জিয়া যখন ১০ বছর ক্ষমতায় ছিলেন তখন কিন্তু স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে যে বানী দিতেন তাতে ৩০ লাখ মা-বোন শহীদ হওয়ার কথা বলেছেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান দেশকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখতেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার সেই দায়িত্বটা পালন করছেন বর্তমান প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। আমাদের সরকারই মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছেন। তাদের জন্য ভাতা চালু করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা ১০ হাজার ও দুটি বোনাস দেয়ার ঘোষনা দিয়েছেন প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধাসহ মুক্তিযোদ্ধাদের কবর এমন ভাবে নির্মাণ করা হবে যাতে ১০০ বছর পরও মানুষ যেন বুঝতে পারে এটা মুক্তিযোদ্ধার কবর।

উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য রুহুল আমিন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী, রাজীবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান শফিউল আলম, মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী বীর বিক্রম, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠক এসকে মজিদ মুকুল। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিনু।


মন্তব্য