কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় নির্যাতন-331787 | সারাবাংলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় নির্যাতন করে যৌতুক দাবি, পরে তালাক

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

৩ মার্চ, ২০১৬ ১৯:৩৪



কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় নির্যাতন করে যৌতুক দাবি, পরে তালাক

দুই কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ায় এক গৃহবধূকে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের মেয়ে নির্যাতিত রুকাইয়া পারভীন ডেইজি।

তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ২০০১ সালে কালিগঞ্জ উপজেলার বন্দাকাটি গ্রামের মৃত আলহাজ্ব মহসিন আলীর ছেলে মাহমুদুল হাসানের সাথে তার বিয়ে হয়। এরপর দাম্পত্য জীবনে তাদের ঘরে দুটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। পর পর দুই কন্যা সন্তানের জন্ম  দেয়ার কারণে তার স্বামী মাহমুদুল হাসান ও তার পরিবার তাকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল।

এক পর্যায়ে গত ২০১৪ সালের ২৪ এপ্রিল তার স্বামী ভবিষ্যতে দুই মেয়ের লেখা পড়া ও বিয়ের জন্য খরচ বাবদ রুকাইয়া পারভীন ডেইজিকে তার বাবার বাড়ি থেকে ১০ লাখ টাকা যৌতুক নিয়ে আসতে চাপ সৃষ্টি করে স্বামী মাহমুদুল হাসান। যৌতুক আনতে অস্বীকার করায় তাকে মারপিট করে জখম অবস্থায় ঘরের মধ্যে আটক করে রাখা হয়। পরে তার পিতা খবর পেয়ে স্বামী মাহমুদুল হাসানের বাড়ি থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পর দিন ঘটনা উল্লেখ করে তার স্বামীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারীধীন আছে। এ মামলাটি দায়েরের পর থেকে তার স্বামী মাহমুদুল হাসান বিভিন্নভাবে তার পিতাকে খুন, জখমসহ তাকে অপহরণ করার হুমকি প্রদান করে আসছিল। এঘটনায় তিনি (ডেইজি) সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেন। এঅবস্থা চলার পর এক পর্যায়ে গত এক মার্চ ২০১৪ তারিখে তাকে তালাক প্রদান করে স্বামী মাহমুদুল হাসান। সেখান থেকে তিনি (ডেইজি) কন্যা সন্তান দুটি নিয়ে শহরের রসুলপুরে তার পিতার সহযোগিতা ও সাহায্যে অতিকষ্টে জীবনযাপন করে আসছিলেন।

তিনি বলেন চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি মাহমুদুল হাসান আকস্মিকভাবে তার বাড়িতে এসে তার হুমকি প্রদান করে তাকে নিপিড়ন করে। এর দুই দিন পর গত ৩০ জানুয়ারি ঘটনা উল্লেখ করে তিনি সাতক্ষীরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আরো একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর মাহমুদুল হাসান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে হাজির হয়ে তার স্ত্রীর সাথে সকল বিবাদ মিমাংসা করবেন বলে একটি লিখিত আবেদন করেন। এতে তিনি তার প্রদত্ত তালাক প্রত্যাহার করবেন বলে গত ২ ফেব্রুয়ারি হলফনামাও ঘোষণা করেন। এত কিছুর পরও প্রতারক মাহমুদুল হাসান তার সকল অপরাধ লুকাতে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে তার (ডেইজির) বিরুদ্ধে অসত্য, বিভ্রান্তিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করে সংবাদ সম্মেলন করেন। যাহা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রতারক স্বামী মাহমুদুল হাসানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিল তার দুই কন্যা উম্মে তাওফিকা তুলি ও উম্মে তানহা পুতুল।

মন্তব্য