এসআই জসিমের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা-331331 | সারাবাংলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

রবিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১০ আশ্বিন ১৪২৩ । ২২ জিলহজ ১৪৩৭


এসআই জসিমের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা তদন্তের নির্দেশ সিআইডিকে

ঝালকাঠি প্রতিনিধি    

২ মার্চ, ২০১৬ ১৭:৩৪



এসআই জসিমের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা তদন্তের নির্দেশ সিআইডিকে

ঝালকাঠি থানার এসআই জসিম উদ্দিন, পিকআপ ভ্যানের চালক মো. আসাদ ও এক যুবকের বিরুদ্ধে দায়ের করা নালিশি হত্যা মামলা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার ঝালকাঠির জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক জাহেদ আহমেদ এ আদেশ দেন। বাদীর আইনজীবী মানিক আচার্য্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত ৫ জানুয়ারি ঝালকাঠির আমলী আদালতে নালিশি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন নিহত ছাত্রলীগ কর্মী সুমনের পিতা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টবল মো. সেকান্দার আলী তালুকদার।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় ঝালকাঠি থানার এসআই জসিম উদ্দিন মোবাইল ফোনে বাদীর ছেলে মো. সুমনকে (৩০) সিটি পার্ক রোডে ডেকে আনেন। এসআই জসিম ও পিকআপ ভ্যানের চালক মো. আসাদ সুমনকে ধরে সুগন্ধ্যা নদীর তীরে হাবিব মিয়ার স'মিলে নিয়ে যান। সেখানে সুমনের কাছে এসআই জসিম ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাকে বড় কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর হুমকি দেন তিনি। সুমন টাকা দিতে অস্বীকার করলে তিনজন মিলে সুমনকে মারধর করেন।

একপর্যায়ে এসআই জসিমের ইটের আঘাতে সুমন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে জসিম তাকে ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে দেন। সুমন নদীর পানিতে তলিয়ে যেতে থাকলেও জসিম তাকে বাঁচানোর চেষ্টা না করে ইট ছুড়তে থাকে। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ হন। পরদিন ২৮ ডিসেম্বর সকালে সুমনের মৃতদেহ উদ্ধার করে বরিশালের ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল। উদ্ধারের পর মৃতদেহ নেওয়া হয় ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে।

এ সময় জরুরি বিভাগের একজন চিকিৎসক এ ব্যাপারে ঝালকাঠি থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন। ময়নাতদন্তের পর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। নালিশি মামলা দায়েরের পর আদালতে তিন দফা শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল সর্বশেষ বাদীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাড. মাহাবুব হোসেন, অ্যাড. আককাস সিকদার,  অ্যাড. শামীম আলম ও অ্যাডভোকেট মানিক আচার্য্য। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক সুমন হত্যার ঘটনা সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

এদিকে, পুলিশ সুমন হত্যার ঘটনায় ঝালকাঠি থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা  করে। কিন্তু সুমনের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে সুমনের মাথায় (চোখের ওপরে) একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। পুলিশ জানায়, ঝালকাঠি শহরের রোনালসে রোডের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কাঞ্চন আলী খানের বাসায় অবৈধভাবে প্রবেশ করে ছাত্রলীগ নেতা লিমন নকিব ও সুমনসহ ৫-৬ জন ওই শিক্ষককে বিবস্ত্র করে অজ্ঞাতপরিচয় দুই নারীর সঙ্গে অশ্লীল ছবি তুলে তার ভিডিও ধারণ করে। এরপর তা প্রকাশের ভয় দেখিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। কাঞ্চন আলী তার ঘরে থাকা ২৭ হাজার টাকা লিমনদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হন।

ঘটনার কয়েকদিন পর কাঞ্চন আলী ঝালকাঠি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ২৭ ডিসেম্বর বিকেলে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করে এবং লিমন নকিবকে গ্রেপ্তার পরে। এ ছাড়া সুমনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হয়। এদিকে, জনরোষের হাত থেকে বাঁচাতে এসআই জসিমকে ঝালকাঠি থেকে বরগুনায় বদলি করা হয়েছে।
                                           

মন্তব্য